সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সরকারের অবস্থান গণতন্ত্রবিরোধী নয়: প্রেস উইং

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৫ Time View

 

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, তা নাকচ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইংয়ের দাবি, এ অবস্থান কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয়; বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাবনা গড়ে উঠেছে, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। সে কারণে সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না।

প্রেস উইং উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটে নেতারা নিজেদের অবস্থান জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করেন, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের হাতেই ন্যস্ত থাকে—এটাই গণতন্ত্রের রীতি।

গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্নে প্রেস উইং জানায়, মূল বিষয় হলো ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব শর্ত বজায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবেই এই সংস্কার গণভোট। এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক কর্তব্য।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে প্রেস উইং জানায়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বলা হয়, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর।

জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রেস উইং জানায়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই—এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সরকারের অবস্থান গণতন্ত্রবিরোধী নয়: প্রেস উইং

Update Time : ০৪:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, তা নাকচ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইংয়ের দাবি, এ অবস্থান কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয়; বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাবনা গড়ে উঠেছে, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। সে কারণে সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না।

প্রেস উইং উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটে নেতারা নিজেদের অবস্থান জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করেন, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের হাতেই ন্যস্ত থাকে—এটাই গণতন্ত্রের রীতি।

গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্নে প্রেস উইং জানায়, মূল বিষয় হলো ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব শর্ত বজায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবেই এই সংস্কার গণভোট। এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক কর্তব্য।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে প্রেস উইং জানায়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বলা হয়, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর।

জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রেস উইং জানায়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই—এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।