হত্যার বিচার কি আদৌ হবে—ওসমান হাদির স্ত্রীর প্রশ্ন
- Update Time : ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৬ Time View

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার আদায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কেন এখনো ইনকিলাব মঞ্চ কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিচার না হওয়ার ধারণাটিই গ্রহণযোগ্য নয়—এই হত্যার বিচার হতেই হবে, যে কোনো মূল্যে।
পোস্টে রাবেয়া ইসলাম সম্পা লেখেন, বিচার না হলে ওসমান হাদির মতো বিপ্লবী বীরেরা আর জন্মাবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন—তবে কেন এত দেরি, কেনই বা সময় লাগছে? কেন সবকিছু সহজভাবে এগোচ্ছে না?
ওসমান হাদির এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি লাইন উদ্ধৃত করেন—“সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।” তিনি লেখেন, যুক্তি-তর্ক বা ব্যাখ্যায় না গিয়ে শুধু এটুকুই মনে করিয়ে দিতে চান—সবাই জানে কেন বিষয়গুলো সহজ হচ্ছে না।
রাবেয়া ইসলাম সম্পা আরও উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি বলতেন—আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ, মুমিনের জীবন মানেই লড়াই ও সংগ্রাম। তাই এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতেই হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে ওসমান হাদির নিজের বলা কিছু কথাও পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। সেখানে ওসমান হাদিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়—“আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপানগুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খেতেও পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থভাবে আমার সঙ্গে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও নাই, আমারই তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে।”
পোস্টে তিনি আবেগঘন ভাষায় প্রশ্ন রাখেন—যারা ওসমান হাদিকে ভালোবাসেন, তার কথা শোনেন, ভিডিও দেখেন, দোয়া করেন—তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের সেই ভাই-বোনগুলোর বর্তমান মানসিক অবস্থা কী? যাদের কাছে তিনি ছিলেন ২৪ ঘণ্টার ছায়ার মতো, তারা আজ কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন?
শেষদিকে তিনি লেখেন, ওসমান হাদি বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন—আমাকে নিয়ে যা বলবেন বলুন, কিন্তু আমার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের নিয়ে কথা বলবেন না, তা আমি সহ্য করতে পারব না।
পোস্টের শেষ লাইনে শহীদ ওসমান হাদির একটি শক্তিশালী উক্তি তুলে ধরা হয়—
“দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।”













