সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশনকেও গণভোটের প্রচারে সক্রিয় হতে হবে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৬ Time View
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট নিয়ে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর পড়লে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকেও সরাসরি মাঠে নেমে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি। বলেন, গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচারে কমিশনের যে কোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরকার দেবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আগের মতোই চলতে চায় নাকি পরিবর্তনের পথে যেতে চায়—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান শোনা যাচ্ছে না। বড় দলগুলোর মুখেও কাঠামোগত সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকার নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভয়াবহ ভাঙন জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। একটি শক্তিশালী সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, যা মূলত এক ধরনের মায়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ভিন্নমত প্রকাশ করলে তখন গুম, খুন, কারাবরণ বা সামাজিকভাবে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি আবার সেই অবস্থায় ফিরতে চাই? গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে একনায়কতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছি কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংস্কার অপরিহার্য। এ জন্যই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ, আর এর সাফল্য নির্ভর করবে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর।

২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোট কী এবং কেন—তা জনগণকে বোঝানো নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব। শুধু ভোট আয়োজন নয়, গণভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাও কমিশনের কাজ। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সুজনসহ নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতি জেলায় জেলায় গিয়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সাখাওয়াত বলেন, ভবিষ্যতে যেন অতীতের মতো শাসনব্যবস্থা ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণভোট জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বৈরাচারী শাসক পালালেও স্বৈরাচারী কাঠামো রয়ে গেছে। তা ভাঙতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি, আর সে লক্ষ্যেই গণভোট। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যার ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব প্রস্তাবের ওপরই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্যালটে থাকবে একটিই প্রশ্ন—হ্যাঁ অথবা না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি গণভোটে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান এবং বলেন, দলগুলো যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই জনগণকে সচেতন করার দায়ও তাদের রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, প্রান্তিক ভোটারদের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদই ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর মূল হাতিয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের সহসভাপতি ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে, নইলে দেশ আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে পারে।

জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট নিয়ে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর পড়লে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকেও সরাসরি মাঠে নেমে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি। বলেন, গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচারে কমিশনের যে কোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরকার দেবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আগের মতোই চলতে চায় নাকি পরিবর্তনের পথে যেতে চায়—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান শোনা যাচ্ছে না। বড় দলগুলোর মুখেও কাঠামোগত সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকার নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভয়াবহ ভাঙন জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। একটি শক্তিশালী সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, যা মূলত এক ধরনের মায়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ভিন্নমত প্রকাশ করলে তখন গুম, খুন, কারাবরণ বা সামাজিকভাবে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি আবার সেই অবস্থায় ফিরতে চাই? গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে একনায়কতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছি কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংস্কার অপরিহার্য। এ জন্যই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ, আর এর সাফল্য নির্ভর করবে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর।

২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোট কী এবং কেন—তা জনগণকে বোঝানো নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব। শুধু ভোট আয়োজন নয়, গণভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাও কমিশনের কাজ। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সুজনসহ নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতি জেলায় জেলায় গিয়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সাখাওয়াত বলেন, ভবিষ্যতে যেন অতীতের মতো শাসনব্যবস্থা ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণভোট জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বৈরাচারী শাসক পালালেও স্বৈরাচারী কাঠামো রয়ে গেছে। তা ভাঙতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি, আর সে লক্ষ্যেই গণভোট। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যার ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব প্রস্তাবের ওপরই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্যালটে থাকবে একটিই প্রশ্ন—হ্যাঁ অথবা না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি গণভোটে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান এবং বলেন, দলগুলো যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই জনগণকে সচেতন করার দায়ও তাদের রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, প্রান্তিক ভোটারদের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদই ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর মূল হাতিয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের সহসভাপতি ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে, নইলে দেশ আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচন কমিশনকেও গণভোটের প্রচারে সক্রিয় হতে হবে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

Update Time : ০৬:৪১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট নিয়ে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর পড়লে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকেও সরাসরি মাঠে নেমে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি। বলেন, গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচারে কমিশনের যে কোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরকার দেবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আগের মতোই চলতে চায় নাকি পরিবর্তনের পথে যেতে চায়—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান শোনা যাচ্ছে না। বড় দলগুলোর মুখেও কাঠামোগত সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকার নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভয়াবহ ভাঙন জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। একটি শক্তিশালী সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, যা মূলত এক ধরনের মায়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ভিন্নমত প্রকাশ করলে তখন গুম, খুন, কারাবরণ বা সামাজিকভাবে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি আবার সেই অবস্থায় ফিরতে চাই? গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে একনায়কতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছি কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংস্কার অপরিহার্য। এ জন্যই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ, আর এর সাফল্য নির্ভর করবে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর।

২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোট কী এবং কেন—তা জনগণকে বোঝানো নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব। শুধু ভোট আয়োজন নয়, গণভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাও কমিশনের কাজ। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সুজনসহ নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতি জেলায় জেলায় গিয়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সাখাওয়াত বলেন, ভবিষ্যতে যেন অতীতের মতো শাসনব্যবস্থা ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণভোট জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বৈরাচারী শাসক পালালেও স্বৈরাচারী কাঠামো রয়ে গেছে। তা ভাঙতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি, আর সে লক্ষ্যেই গণভোট। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যার ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব প্রস্তাবের ওপরই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্যালটে থাকবে একটিই প্রশ্ন—হ্যাঁ অথবা না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি গণভোটে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান এবং বলেন, দলগুলো যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই জনগণকে সচেতন করার দায়ও তাদের রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, প্রান্তিক ভোটারদের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদই ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর মূল হাতিয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের সহসভাপতি ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে, নইলে দেশ আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে পারে।

জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট নিয়ে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর পড়লে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকেও সরাসরি মাঠে নেমে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি। বলেন, গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচারে কমিশনের যে কোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরকার দেবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আগের মতোই চলতে চায় নাকি পরিবর্তনের পথে যেতে চায়—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান শোনা যাচ্ছে না। বড় দলগুলোর মুখেও কাঠামোগত সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকার নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভয়াবহ ভাঙন জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। একটি শক্তিশালী সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, যা মূলত এক ধরনের মায়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ভিন্নমত প্রকাশ করলে তখন গুম, খুন, কারাবরণ বা সামাজিকভাবে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি আবার সেই অবস্থায় ফিরতে চাই? গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে একনায়কতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছি কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংস্কার অপরিহার্য। এ জন্যই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ, আর এর সাফল্য নির্ভর করবে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর।

২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোট কী এবং কেন—তা জনগণকে বোঝানো নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব। শুধু ভোট আয়োজন নয়, গণভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাও কমিশনের কাজ। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সুজনসহ নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতি জেলায় জেলায় গিয়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সাখাওয়াত বলেন, ভবিষ্যতে যেন অতীতের মতো শাসনব্যবস্থা ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণভোট জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বৈরাচারী শাসক পালালেও স্বৈরাচারী কাঠামো রয়ে গেছে। তা ভাঙতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি, আর সে লক্ষ্যেই গণভোট। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যার ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব প্রস্তাবের ওপরই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্যালটে থাকবে একটিই প্রশ্ন—হ্যাঁ অথবা না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি গণভোটে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান এবং বলেন, দলগুলো যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই জনগণকে সচেতন করার দায়ও তাদের রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, প্রান্তিক ভোটারদের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদই ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর মূল হাতিয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের সহসভাপতি ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে, নইলে দেশ আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে পারে।