পরিবারসহ সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
- Update Time : ০৯:৫৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১৪ Time View

দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতেই এই নির্দেশনা এসেছে, যা তদন্ত কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন ও কার্যকর রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন—
- বিপ্লব কুমার সরকার
- তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম
- ভাই প্রণব কুমার সরকার
- ভাইয়ের স্ত্রী শাহানারা বেগম
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান দুদকের আবেদন বিবেচনা করে এ নির্দেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বিপুল অঙ্কের লেনদেন, শত শত হিসাব
দুদকের আবেদনে বলা হয়, বিপ্লব কুমার সরকার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সরকারি চাকরিজীবী হয়েও ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং সেই সম্পদের উৎস আড়াল করার কার্যক্রমে তারা জড়িত।
দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি আদালতে জানান—
- ২১টি ব্যাংকের ৩২৫টি হিসাব
- দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩টি হিসাব
- ৭টি ব্রোকারেজ হাউসের ১৩টি হিসাব
মোট ৩৪১টি ব্যাংক ও বিনিয়োগ হিসাবের মাধ্যমে বিপ্লব কুমার সরকার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা এবং ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
এই হিসাবগুলোতে অনিয়মিত লেনদেন, বেনামি সম্পদ ও আয়ের অস্পষ্ট উৎস অনুসন্ধানে দুদক ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কা ও দেশত্যাগের চেষ্টা
দুদক জানিয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী সম্পৃক্ত অপরাধ, নামে-বেনামে সম্পদ ক্রয় এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।
বিপ্লব কুমার সরকার ও তার পরিবার বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।
তাই তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সম্ভাবনা এড়াতে এবং অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগ বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে দুদক আদালতে যুক্তি তুলে ধরে। আদালত তা গ্রহণ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ?
- তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজনরা দেশত্যাগ করলে প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে
- বিদেশে সম্পদ স্থানান্তর বা প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে
- বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি-ভিত্তিক জিজ্ঞাসাবাদ অপরিহার্য
- মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে সময় প্রয়োজন
দুদক বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফলাফল স্পষ্ট হলে পরবর্তী ধাপে অভিযোগপত্র দাখিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













