সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৭৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মালিকের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৬০ Time View
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে সিআইডি ঢাকার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করেছে এবং এটি ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে, গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার মানিলন্ডারিং মামলা রুজু করা হয়।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা অসীম উদ্দিন খান বলেন, “দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দেশে ও বিদেশে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাকারবারি চালিয়ে আসছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থের অবৈধ লেনদেন প্রাথমিকভাবে ধরা পড়েছে।”

তদন্তে আরও দেখা গেছে, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মোট ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সা মূল্যের স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড অন্যান্য দ্রব্য বৈধভাবে আমদানি করেছে। তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় বা বিনিময় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এর উৎস বা সরবরাহকারীর বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি সিআইডিকে প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে এসেছে।

সিআইডির মুখপাত্র জানান, চোরাচালানে অর্জিত সম্পদ ও অপরাধলব্ধ অর্থের রূপান্তর, হস্তান্তর বা ব্যবহার সংক্রান্ত নথি পর্যবেক্ষণ করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অনুসন্ধান প্রতিবেদন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির কাছে দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ নভেম্বর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলা দায়েরের অনুমোদন পায়।

তিনি আরও বলেন, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত সিআইডিই করবে। প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী নিবিড় তদন্ত শুরু হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৬৭৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মালিকের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

Update Time : ১১:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে সিআইডি ঢাকার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করেছে এবং এটি ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে, গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার মানিলন্ডারিং মামলা রুজু করা হয়।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা অসীম উদ্দিন খান বলেন, “দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দেশে ও বিদেশে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাকারবারি চালিয়ে আসছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থের অবৈধ লেনদেন প্রাথমিকভাবে ধরা পড়েছে।”

তদন্তে আরও দেখা গেছে, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মোট ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সা মূল্যের স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড অন্যান্য দ্রব্য বৈধভাবে আমদানি করেছে। তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় বা বিনিময় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এর উৎস বা সরবরাহকারীর বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি সিআইডিকে প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে এসেছে।

সিআইডির মুখপাত্র জানান, চোরাচালানে অর্জিত সম্পদ ও অপরাধলব্ধ অর্থের রূপান্তর, হস্তান্তর বা ব্যবহার সংক্রান্ত নথি পর্যবেক্ষণ করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অনুসন্ধান প্রতিবেদন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির কাছে দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ নভেম্বর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলা দায়েরের অনুমোদন পায়।

তিনি আরও বলেন, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত সিআইডিই করবে। প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী নিবিড় তদন্ত শুরু হবে।