বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ব্যাপক প্রচার
- Update Time : ০৮:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২০ Time View

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবরটি সোমবার বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দিনব্যাপী এ রায়কে কেন্দ্র করে লাইভ আপডেট ও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সকালের পর থেকেই বিবিসি শিরোনাম দেয়— ‘ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগে বাংলাদেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার।’ রায় ঘোষণার পর তারা আরেকটি লাইভ শিরোনাম প্রচার করে— ‘বিক্ষোভ দমনে নৃশংসতার দায়ে বাংলাদেশের নেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।’ বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের ফলে তাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে নয়াদিল্লির ওপরও চাপ বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স শিরোনাম করে— ‘শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বহু মাস ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ার পর এই রায়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে নাটকীয় আইনগত পদক্ষেপগুলোর একটি।
আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয়— ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।’ তারা জানায়, গত বছরের বিক্ষোভ দমনে পরিচালিত সহিংস অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী পলাতক অবস্থায় বিচারাধীন ছিলেন। এক হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির ঘটনার ‘মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান নির্দেশদাতা’ হিসেবেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ফ্রান্স২৪ শিরোনাম করে— ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।’ অপরদিকে এএফপি একাধিক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরে জানায়, আদালতে রায় ঘোষণার সময় উত্তেজনা ছড়ায়। ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভারত থেকে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিএনবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, এবিসি নিউজ ও অন্যান্য পশ্চিমা গণমাধ্যমও ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছিল শেখ হাসিনার সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড নিয়ে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনডিটিভির শীর্ষ পাঁচ খবরের চারটিই ছিল এই রায়কে ঘিরে। দ্য হিন্দু ধারাবাহিক আপডেট দেয়, হিন্দুস্তান টাইমসের শীর্ষ দুই খবরে একটি ছিল এই রায়ের ওপর। আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এবিপি লাইভ, এই সময়— সব প্রধান ভারতীয় মিডিয়াই খবরটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে— ‘শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড পেলেন; সাবেক পুলিশ প্রধান রেহাই পেলেন মৃত্যুদণ্ড থেকে।’
তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি শিরোনাম দেয়— ‘বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড।’ পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমেও খবরটি গুরুত্ব পেয়েছে। লঙ্কান ডেইলি মিরর লিখেছে— ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।’ পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ডন লিখেছে— ‘ছাত্র আন্দোলন দমনে নৃশংসতার কারণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড।’ জিও নিউজও একই ধরনের শিরোনাম প্রকাশ করেছে।
গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করা হয়। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তি দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। ওই বছরের ৫ আগস্ট তিনি পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।













