সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগুন-ককটেল হামলাকারীকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮২ Time View

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ আগুন লাগানো বা ককটেল নিক্ষেপের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে পুলিশ সদস্যরা প্রয়োজনে গুলি চালাতে পারবেন। জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি দেখা দিলে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। পরে ডিএমপি কমিশনার নিজেই বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যখন কেউ বাসে আগুন দেয়, ককটেল ছোড়ে বা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে—তখন কি পুলিশ শুধু দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে? জনজীবন রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।”

রাজনৈতিক উত্তেজনা সহিংসতার আশঙ্কা

জুলাই মাসের অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এসময়ের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে আগুন দেওয়া ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে নাগরিকদের চলাচল এবং পরিবহন নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে জানা গেছে।

দিন আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরূপ নির্দেশ

উল্লেখ্য, এর পাঁচ দিন আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারও একই ধরনের নির্দেশ জারি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, নাশকতা বা বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে কেউ বিস্ফোরক হাতে নিলে বা আগুন ধরানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ গুলি চালাতে পারবে। ডিএমপির নতুন নির্দেশের ফলে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বার্তা: নাশকতা রুখতে জিরো টলারেন্স

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সহিংসতা সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয় এবং শহরজুড়ে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আগুন-ককটেল হামলাকারীকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

Update Time : ০৮:২৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ আগুন লাগানো বা ককটেল নিক্ষেপের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে পুলিশ সদস্যরা প্রয়োজনে গুলি চালাতে পারবেন। জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি দেখা দিলে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। পরে ডিএমপি কমিশনার নিজেই বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যখন কেউ বাসে আগুন দেয়, ককটেল ছোড়ে বা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে—তখন কি পুলিশ শুধু দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে? জনজীবন রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।”

রাজনৈতিক উত্তেজনা সহিংসতার আশঙ্কা

জুলাই মাসের অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এসময়ের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে আগুন দেওয়া ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে নাগরিকদের চলাচল এবং পরিবহন নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে জানা গেছে।

দিন আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরূপ নির্দেশ

উল্লেখ্য, এর পাঁচ দিন আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারও একই ধরনের নির্দেশ জারি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, নাশকতা বা বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে কেউ বিস্ফোরক হাতে নিলে বা আগুন ধরানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ গুলি চালাতে পারবে। ডিএমপির নতুন নির্দেশের ফলে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বার্তা: নাশকতা রুখতে জিরো টলারেন্স

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সহিংসতা সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয় এবং শহরজুড়ে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।