ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ: তদন্তে নেমেছে পুলিশ
- Update Time : ০৪:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬০ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে ব্যাংকের জানালার ফাঁক দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার সময় ব্যাংকের ভেতরে থাকা নৈশপ্রহরী আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে স্থানীয়দের ডাকেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পানি ও বালুর সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ব্যাংকের ভেতরের আসবাবপত্র, ফাইল, নথিপত্র এবং কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে যায়। তবে ব্যাংকের মূল ভল্ট বা টাকার সুরক্ষিত কক্ষ অক্ষত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের ম্যানেজার মো. কলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমরা ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে খবর পাই। পরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। যদিও ভল্টে থাকা টাকা বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে আসবাবপত্র ও কিছু নথি পুড়ে গেছে। আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিজয়নগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াসি আজাদ বলেন, “আমরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে থেকে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি।”
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কে বা কারা এই আগুন দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্ত চলছে, এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে ব্যাংকটিতে আগুন দেওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা হতে পারে। তবে পুলিশ এখনো কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেনি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা মন্তব্য করতে চান না।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং শিগগিরই দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।












