বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদই আগামী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি:ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ০৪:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২৯ Time View

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আগামীতে মানুষ কেমন বাংলাদেশ চায়, তার রিহার্সেল চলছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে। আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্ববোধই গড়ে দেবে নতুন বাংলাদেশ।”
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমি ও এই দেশের প্রতিটি নাগরিক তারুণ্যনির্ভর একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই—যেখানে নেতৃত্ব আসবে যোগ্য, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক তরুণদের হাত ধরে। অনেকেই জানতে চান, আগামী বাংলাদেশ কেমন হবে? আমি বলি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদের নির্বাচিত নেতৃত্ব যেমন দিকনির্দেশনা দেবে, আগামী বাংলাদেশও তেমনই হবে। ছাত্র সমাজই জাতির ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “তোমরাই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব। তোমাদের হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও গবেষণার মান নির্ভর করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হতে হবে জ্ঞানের গবেষণাগার, মতের মিলনমেলা, চিন্তা-চেতনার বিকাশকেন্দ্র। কিন্তু আজ সেই পরিবেশ হারিয়ে গেছে। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে কেবল গবেষণার অনুকূল পরিবেশের অভাবে। তোমাদের ওপর দায়িত্ব—এই ঘাটতি পূরণ করে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।”
তিনি তরুণ নেতৃত্বকে উদ্দেশ করে বলেন, “ছাত্র সংসদ শুধু দাবি আদায়ের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি নেতৃত্ব গঠনের প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র। এখানে তোমাদের শিখতে হবে কিভাবে মতবিরোধের মধ্যেও ঐক্য গড়া যায়, কিভাবে প্রতিপক্ষকে পরাজিত নয়, বরং যুক্তি ও নীতির মাধ্যমে জয় করা যায়। আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনার জন্য তোমাদের প্রস্তুত হতে হবে—কারণ একদিন তোমরাই এই জাতির ককপিটে বসবে, আর আমরা পেছন থেকে পরামর্শ দেব। যদি তোমরা ভুল করো, আমরা সতর্ক করব, সংশোধন না করলে সরিয়ে দেব। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তোমরাই সক্ষম—কারণ তোমরা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছ, পর্বতসম প্রতিবন্ধকতাও তোমরা দূর করতে পারো।”
জামায়াত আমির বলেন, “আজকের তরুণদের দায়িত্ব শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়া নয়; বরং গোটা জাতির ভবিষ্যৎ রচনা করা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে, ক্যাম্পাসে বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তারুণ্যের শক্তিতেই বাংলাদেশ নতুন করে উঠে দাঁড়াবে—একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও নৈতিক বাংলাদেশ হিসেবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। অনুষ্ঠানে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ছাত্র সংসদ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, শিবিরের সাবেক নেতারা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটি একদিকে নবনির্বাচিত তরুণ নেতৃত্বের সম্মাননা, অন্যদিকে ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক প্রতীকী সমাবেশ। বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—দেশের আগামী প্রজন্মের হাতে গড়ে উঠবে এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে জ্ঞান, ন্যায়, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম হবে নেতৃত্বের মূল ভিত্তি।











