বাবুনগরী,ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের শত্রু : ঐক্যের পথে অন্তরায়
- Update Time : ১২:২৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৬১ Time View

হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি প্রকাশ্যে বহুবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, জামায়াত কোনো সহিহ ইসলামী দল নয়, বরং তারা মওদুদীর চিন্তাধারার অনুসারী হয়ে মদিনার ইসলামের পরিবর্তে ‘মওদুদীর ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাঁর ভাষ্যমতে, জামায়াতের এই ভ্রান্ত মতাদর্শই ইসলামী আন্দোলনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনেও বাবুনগরী কঠোরভাবে ইসলামি দলগুলোকে সতর্ক করে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো অবস্থাতেই এমন দলের সঙ্গে জোট করা যাবে না, যাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও মতাদর্শ সম্পর্কে পূর্বসূরি আলেমরা বারবার সতর্ক করে গেছেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে জামায়াতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন।
তবে বাবুনগরীর এসব বক্তব্য নিয়ে হেফাজতের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করা বা নির্বাচনী জোট নিয়ে মন্তব্য করা বিতর্কিত হতে পারে। এতে সংগঠনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবুও বাবুনগরী দেশের প্রবীণ আলেম হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ আপত্তি তুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বাবুনগরীর এই অবস্থানে স্পষ্টতই বিরক্ত। জামায়াতের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “হেফাজতের আমিরকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু ইসলামী শক্তির ঐক্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য কোনো খাঁটি মুমিনের কাছ থেকে কাম্য নয়।” ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানও মন্তব্য করেছেন, হেফাজত নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও এখন মনে হচ্ছে তারা পক্ষ নিচ্ছে, যা ইসলামি ঐক্যের জন্য শুভ নয়।
মূলত বাবুনগরীর অবস্থান ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে নতুন এক দ্বন্দ্ব ও বিভাজন সৃষ্টি করছে। ইসলামী শক্তির ঐক্যের প্রশ্নে যেখানে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান উঠছে, সেখানে হেফাজতের শীর্ষ নেতার এই বক্তব্য ঐক্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ইসলামী আন্দোলনের শত্রুতা মূলত ভেতর থেকেই তৈরি হচ্ছে, আর বাবুনগরীর অবস্থান জামায়াতের জন্য শুধু রাজনৈতিক নয়, আদর্শগত হুমকিও বটে।
বাবুনগরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়াবে বলে অনেকেই মনে করছেন। এতে ইসলামী শক্তি বিভক্ত হলে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোই লাভবান হবে। কারণ, ইসলামী ভোটব্যাংক ছড়িয়ে পড়বে এবং কার্যত তারা কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাবুনগরীর ইসলামি অবস্থান যদিও অনেকের কাছে নীতিনিষ্ঠ মনে হতে পারে, তবে তাঁর বক্তব্য ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে বিভাজন বাড়াচ্ছে। এ কারণে অনেকেই তাঁকে ইসলামী ঐক্য ও আন্দোলনের প্রধান অন্তরায় বা এক ধরনের ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবেও দেখছেন।











