সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছরে রাজনৈতিক পরিচয়ে ৯০ হাজার পুলিশ নিয়োগ: ডিএমপি কমিশনার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ১৮৯ Time View

32e6fc62f6bac064ebe288062558ec6c 6756a1acc08d2

 

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্য রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া

ডিএমপি কমিশনারের মতে, গত ১৫ বছরে নিয়োগ প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া চালু ছিল। এতে প্রার্থীর নিজ দলের পরিচয় ছাড়াও তার পিতামাতা, দাদা বা পূর্বপুরুষরা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশ বাহিনীর প্রায় দুই লাখ সদস্যের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্যকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “নিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যদের তো আর আমরা সরাসরি বলে দিতে পারি না ‘গো হোম’। তবে যারা দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পরিস্থিতির পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

ডিএমপি কমিশনার পুলিশ বাহিনীর বর্তমান অবস্থা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন হয় যে পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তখন রাজধানীজুড়ে ডাকাতি, লুটপাটের মতো ঘটনা বেড়ে যায়। এমনকি ৮০ বছরের বৃদ্ধকেও লাঠি হাতে বাড়ি পাহারা দিতে হয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সদ্যবিদায়ী কমিশনারসহ আমরা অনেক কাজ করেছি। পুলিশকে সক্রিয় করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

ঢাকার প্রধান সমস্যা: ট্রাফিক

ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা ট্রাফিক ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শহরে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যা সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। পরিস্থিতি এমন যে, মানুষ হাঁটার জায়গা পাচ্ছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ট্রাফিক আইনে দ্বিগুণ হারে মামলা করা হচ্ছে। কিন্তু এটি সফল করতে ঢাকাবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, “সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে চলে যাওয়ার কারণে পথচারীরা বিপাকে পড়ছেন। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

ছিনতাই চাঁদাবাজি রোধে পদক্ষেপ

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার জানান, “বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে জানানো হয়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে থানা পুলিশ এবং ডিবি ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে।”

চাঁদাবাজি রোধে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। কেউ চাঁদা দেবেন না। আমরা পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে আছি এবং থাকব।”

পেশাদারিত্বের বাইরে কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ

ডিএমপি কমিশনার ছাত্র-জনতার আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাবের কথা স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা স্বীকার করছি যে, কিছু সময় পেশাদারিত্বের অভাবে পুলিশ সদস্যরা অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছে। এজন্য দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে বদলি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব সমস্যা সমাধান করা কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১৫ বছরে রাজনৈতিক পরিচয়ে ৯০ হাজার পুলিশ নিয়োগ: ডিএমপি কমিশনার

Update Time : ০৬:১৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪

 

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্য রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া

ডিএমপি কমিশনারের মতে, গত ১৫ বছরে নিয়োগ প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া চালু ছিল। এতে প্রার্থীর নিজ দলের পরিচয় ছাড়াও তার পিতামাতা, দাদা বা পূর্বপুরুষরা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশ বাহিনীর প্রায় দুই লাখ সদস্যের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্যকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “নিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যদের তো আর আমরা সরাসরি বলে দিতে পারি না ‘গো হোম’। তবে যারা দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পরিস্থিতির পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

ডিএমপি কমিশনার পুলিশ বাহিনীর বর্তমান অবস্থা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন হয় যে পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তখন রাজধানীজুড়ে ডাকাতি, লুটপাটের মতো ঘটনা বেড়ে যায়। এমনকি ৮০ বছরের বৃদ্ধকেও লাঠি হাতে বাড়ি পাহারা দিতে হয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সদ্যবিদায়ী কমিশনারসহ আমরা অনেক কাজ করেছি। পুলিশকে সক্রিয় করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

ঢাকার প্রধান সমস্যা: ট্রাফিক

ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা ট্রাফিক ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শহরে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যা সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। পরিস্থিতি এমন যে, মানুষ হাঁটার জায়গা পাচ্ছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ট্রাফিক আইনে দ্বিগুণ হারে মামলা করা হচ্ছে। কিন্তু এটি সফল করতে ঢাকাবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, “সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে চলে যাওয়ার কারণে পথচারীরা বিপাকে পড়ছেন। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

ছিনতাই চাঁদাবাজি রোধে পদক্ষেপ

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার জানান, “বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে জানানো হয়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে থানা পুলিশ এবং ডিবি ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে।”

চাঁদাবাজি রোধে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। কেউ চাঁদা দেবেন না। আমরা পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে আছি এবং থাকব।”

পেশাদারিত্বের বাইরে কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ

ডিএমপি কমিশনার ছাত্র-জনতার আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাবের কথা স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা স্বীকার করছি যে, কিছু সময় পেশাদারিত্বের অভাবে পুলিশ সদস্যরা অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছে। এজন্য দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে বদলি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব সমস্যা সমাধান করা কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।