সময়: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাহকদের পাওনা টাকার খবর নাই? সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি আর সাজসজ্জা!

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৬:১৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১৪৫ Time View

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন। দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে এক ছাতার নিচে এনে নতুন এই ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ আমানতকারী ও গ্রাহকদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—শুধু চেয়ারম্যান ও এমডি পরিবর্তন করলেই কি তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে?

সমস্যার মূল কোথায়?

কোনো ব্যাংক সংকটে পড়ার পেছনে সাধারণত একজন এমডি বা চেয়ারম্যান এককভাবে দায়ী থাকেন না। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, মালিকপক্ষ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অস্বচ্ছ ঋণ বিতরণ এবং সুশাসনের অভাব—সবকিছু মিলেই একটি ব্যাংককে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

গত এক দশকে দেশের কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিতর্কিত ঋণ হিসেবে বেরিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত জামানত ছাড়াই ঋণ অনুমোদন হয়েছে, একই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই অর্থের বড় অংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

নতুন নেতৃত্ব কি আশার আলো?

নতুন চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান এবং নতুন এমডি আবেদুর রহমান সিকদারের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিঃসন্দেহে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক বিষয়। তবে বাস্তবতা হলো, নেতৃত্ব পরিবর্তন কোনো জাদুর কাঠি নয়।

ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা, খেলাপি ঋণের পরিমাণ, পুনরুদ্ধারযোগ্য সম্পদ, আদালতে থাকা মামলা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং গ্রাহকদের দায়—এসব বিষয় সমাধান না হলে কেবল নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিয়ে সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রকৃত চ্যালেঞ্জ

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে প্রথমত ব্যাংকের আটকে থাকা ঋণ পুনরুদ্ধার করতে হবে। যেসব ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার একটি স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কত টাকা আদায়যোগ্য, কত টাকা আদায় অসম্ভব, কত সম্পদ বিক্রি করা যেতে পারে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা ছাড়া কোনো পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সফল হবে না।

তৃতীয়ত, সরকারের পক্ষ থেকে যে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু সাজসজ্জা নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতা

অনেক সময় দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়লে অফিস সংস্কার, নতুন লোগো, নতুন নাম, নতুন চেয়ারম্যান বা নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়োগের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাস্তব সমস্যাগুলো যদি সমাধান না হয়, তাহলে এসব পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা হিসেবেই থেকে যায়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও মূল প্রশ্ন হলো—যারা ব্যাংকগুলোকে এই অবস্থায় নিয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? জনগণের অর্থ লুটপাটকারীরা কি জবাবদিহির আওতায় এসেছে? খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি কি হচ্ছে? যদি এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায়, তাহলে নতুন নিয়োগের সুফলও সীমিত থাকবে।

আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় কাজ

ব্যাংকিং খাত মূলত আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন গ্রাহক তার সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রাখেন এই বিশ্বাসে যে, প্রয়োজনে তিনি সেই অর্থ ফেরত পাবেন। যখন সেই আস্থা নষ্ট হয়ে যায়, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। তাদের নিয়মিত তথ্য প্রকাশ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

শেষকথা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত আসবে না। প্রয়োজন কঠোর সুশাসন, জবাবদিহিতা, দুর্নীতির বিচার, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা।

অফিসের নামফলক বদলানো সহজ, কিন্তু মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন। আজ লাখো আমানতকারীর একটাই প্রশ্ন—“নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি এলেন, কিন্তু আমাদের টাকা কবে ফেরত পাব?” এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তরই নির্ধারণ করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সফলতা বা ব্যর্থতা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

গ্রাহকদের পাওনা টাকার খবর নাই? সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি আর সাজসজ্জা!

Update Time : ০৬:১৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন। দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে এক ছাতার নিচে এনে নতুন এই ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ আমানতকারী ও গ্রাহকদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—শুধু চেয়ারম্যান ও এমডি পরিবর্তন করলেই কি তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে?

সমস্যার মূল কোথায়?

কোনো ব্যাংক সংকটে পড়ার পেছনে সাধারণত একজন এমডি বা চেয়ারম্যান এককভাবে দায়ী থাকেন না। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, মালিকপক্ষ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অস্বচ্ছ ঋণ বিতরণ এবং সুশাসনের অভাব—সবকিছু মিলেই একটি ব্যাংককে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

গত এক দশকে দেশের কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিতর্কিত ঋণ হিসেবে বেরিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত জামানত ছাড়াই ঋণ অনুমোদন হয়েছে, একই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই অর্থের বড় অংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

নতুন নেতৃত্ব কি আশার আলো?

নতুন চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান এবং নতুন এমডি আবেদুর রহমান সিকদারের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিঃসন্দেহে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক বিষয়। তবে বাস্তবতা হলো, নেতৃত্ব পরিবর্তন কোনো জাদুর কাঠি নয়।

ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা, খেলাপি ঋণের পরিমাণ, পুনরুদ্ধারযোগ্য সম্পদ, আদালতে থাকা মামলা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং গ্রাহকদের দায়—এসব বিষয় সমাধান না হলে কেবল নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিয়ে সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রকৃত চ্যালেঞ্জ

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে প্রথমত ব্যাংকের আটকে থাকা ঋণ পুনরুদ্ধার করতে হবে। যেসব ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার একটি স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কত টাকা আদায়যোগ্য, কত টাকা আদায় অসম্ভব, কত সম্পদ বিক্রি করা যেতে পারে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা ছাড়া কোনো পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সফল হবে না।

তৃতীয়ত, সরকারের পক্ষ থেকে যে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু সাজসজ্জা নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতা

অনেক সময় দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়লে অফিস সংস্কার, নতুন লোগো, নতুন নাম, নতুন চেয়ারম্যান বা নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়োগের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাস্তব সমস্যাগুলো যদি সমাধান না হয়, তাহলে এসব পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা হিসেবেই থেকে যায়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও মূল প্রশ্ন হলো—যারা ব্যাংকগুলোকে এই অবস্থায় নিয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? জনগণের অর্থ লুটপাটকারীরা কি জবাবদিহির আওতায় এসেছে? খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি কি হচ্ছে? যদি এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায়, তাহলে নতুন নিয়োগের সুফলও সীমিত থাকবে।

আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় কাজ

ব্যাংকিং খাত মূলত আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন গ্রাহক তার সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রাখেন এই বিশ্বাসে যে, প্রয়োজনে তিনি সেই অর্থ ফেরত পাবেন। যখন সেই আস্থা নষ্ট হয়ে যায়, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। তাদের নিয়মিত তথ্য প্রকাশ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

শেষকথা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত আসবে না। প্রয়োজন কঠোর সুশাসন, জবাবদিহিতা, দুর্নীতির বিচার, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা।

অফিসের নামফলক বদলানো সহজ, কিন্তু মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন। আজ লাখো আমানতকারীর একটাই প্রশ্ন—“নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি এলেন, কিন্তু আমাদের টাকা কবে ফেরত পাব?” এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তরই নির্ধারণ করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সফলতা বা ব্যর্থতা।