ঋণমুক্ত জীবন, দুশ্চিন্তামুক্ত মন: ইসলামের সুন্দর জীবনদর্শন
- Update Time : ০৩:২০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / ৬১ Time View

আজকের সমাজে সফলতার মানদণ্ড যেন একটি বাড়ি, একটি দামি গাড়ি এবং বড় অঙ্কের সম্পদ। অথচ এই অর্জনের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকেই নিজের মানসিক শান্তি, পারিবারিক সুখ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি হারিয়ে ফেলছেন। অন্যদিকে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যাদের নিজস্ব বাড়ি নেই, বিলাসবহুল গাড়ি নেই, ব্যাংকের বড় ঋণও নেই—কিন্তু তারা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমান। কারণ তাদের হৃদয়ে আছে তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা), অল্পে সন্তুষ্টি (কানাআত) এবং ঋণমুক্ত জীবনের প্রশান্তি।
ইসলাম সম্পদ অর্জনকে নিরুৎসাহিত করে না; বরং হালাল উপায়ে উপার্জনকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। তবে সম্পদের প্রতি অতি আসক্তি এবং অহেতুক ঋণের বোঝা বহন করতে ইসলাম সতর্ক করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তাঁর জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
(সূরা আত-তালাক ৬৫:২-৩)
এই আয়াত আমাদের শেখায়, প্রকৃত নিরাপত্তা ব্যাংক ব্যালেন্সে নয়; বরং আল্লাহর ওপর ভরসায়।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সকালবেলা নিরাপদ অবস্থায় ঘুম থেকে ওঠে, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং তার দিনের খাদ্য তার কাছে থাকে, তাহলে যেন পুরো দুনিয়াই তাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
(জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৬)
এই হাদিসে জীবনের প্রকৃত সুখের তিনটি উপাদান তুলে ধরা হয়েছে—নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং প্রয়োজনীয় রিজিক। এখানে কোথাও বিলাসবহুল বাড়ি বা দামি গাড়ির কথা নেই।
ঋণ সম্পর্কে ইসলাম অত্যন্ত সতর্ক করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত এ দোয়া করতেন—
“হে আল্লাহ! আমি গুনাহ এবং ঋণের বোঝা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।”
(সহিহ বুখারি,
তিনি আরও বলেছেন,
“মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত থাকে, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।”
(জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৮)
আজ অনেক মানুষ শুধু সামাজিক মর্যাদা দেখানোর জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে বাড়ি, গাড়ি কিংবা বিলাসী জীবন গড়তে চান। কিন্তু সেই ঋণের কিস্তি, মানসিক চাপ এবং অনিশ্চয়তা তাদের সুখ কেড়ে নেয়। অন্যদিকে যে ব্যক্তি সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন করে, অল্পে সন্তুষ্ট থাকে এবং ঋণ এড়িয়ে চলে, তার জীবনে অনেক সময় শান্তি বেশি থাকে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“সে-ই সফল, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, প্রয়োজনমাফিক রিজিক পেয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট রেখেছেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৫৪)
আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের চোখে বড় হওয়া নয়; বরং আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া। যদি নিজের বাড়ি না-ও থাকে, গাড়ি না-ও থাকে, কিন্তু পরিবারে শান্তি থাকে, হালাল রিজিক থাকে, ঋণের বোঝা না থাকে এবং আল্লাহর ওপর অটুট ভরসা থাকে—তবে সেটিই প্রকৃত সফলতা।
মনে রাখুন:
বাড়ি না থাকাটা দুঃখের নয়, গাড়ি না থাকাটাও ব্যর্থতা নয়। কিন্তু ঈমান হারানো, ঋণের চাপে জর্জরিত হওয়া এবং মানসিক শান্তি হারানোই প্রকৃত ক্ষতি। অল্পে সন্তুষ্ট, ঋণমুক্ত ও আল্লাহভীরু জীবনই সবচেয়ে বড় সম্পদ।















