‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’-এ নামল ইসলামী ব্যাংক
- Update Time : ০৫:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮৬ Time View

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে নামিয়ে সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। টানা দুই বছর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এতে বলা হয়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকেই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আর কোনো ঋণ সুবিধা পাবেন না।
পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল অবস্থার কোম্পানির তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়, বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করতে পারে না অথবা আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকে, সেসব কোম্পানিকে এই ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়।
একইসঙ্গে বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং সাউথ বাংলা ব্যাংককেও তাদের আগের ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে নামিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই দুই ব্যাংকের ক্ষেত্রেও শেয়ার কেনায় ঋণ সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে গেলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি বাজারের আস্থা কমে যায় এবং শেয়ারের দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার ৩৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হলেও দুপুরের দিকে তা কমে ৩৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং মুনাফার চাপের কারণে বেশ কয়েকটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে চাপে রয়েছে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে আরও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।










