সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মূলধনে ঘাটতি থাকলেও বোনাস দিতে পারবে ব্যাংক, নতুন নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৬২ Time View

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিট মুনাফা না থাকলেও অপারেটিং বা পরিচালন মুনাফা থাকলে এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা বোনাস দিতে পারবে। এমনকি মূলধনে ঘাটতি থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা দেওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জারি করা একটি সার্কুলারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের মূলধন আগের বছরের তুলনায় কমে যায়নি, কেবল তারাই এই সুবিধা পাবে। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকের ডেফারেল সুবিধার প্রয়োজন নেই, তারাও এই নীতির আওতায় আসবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সর্বোচ্চ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাস অনুমোদন করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাতে কর্মীদের উৎসাহ বৃদ্ধি করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা। দীর্ঘদিন ধরে বোনাস বন্ধ থাকায় কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই শিথিলতা আনা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, যেসব ব্যাংক নিট মুনাফা করতে ব্যর্থ হবে কিংবা যাদের মূলধন ও প্রভিশনে ঘাটতি থাকবে, তারা কোনো ধরনের প্রণোদনা বোনাস দিতে পারবে না। সেই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক ব্যাংকে বোনাস বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

ব্যাংকারদের মতে, কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দক্ষ জনবল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। অনেক কর্মী ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ফলে দুর্বল ব্যাংকগুলো আরও চাপে পড়ে।

এ প্রেক্ষাপটে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বিধিনিষেধ শিথিলের দাবি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রণোদনা বোনাস না থাকলে কর্মীদের মনোবল কমে যায় এবং ব্যাংকের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

একজন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, “বোনাস না থাকলে দক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে চান। এতে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, দুর্বল আর্থিক অবস্থার ব্যাংকগুলো যেন এই সুযোগের অপব্যবহার না করে এবং প্রকৃত আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিগত পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে একদিকে কর্মীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এলেও, অন্যদিকে আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামনে এনে দিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মূলধনে ঘাটতি থাকলেও বোনাস দিতে পারবে ব্যাংক, নতুন নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

Update Time : ০৫:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিট মুনাফা না থাকলেও অপারেটিং বা পরিচালন মুনাফা থাকলে এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা বোনাস দিতে পারবে। এমনকি মূলধনে ঘাটতি থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা দেওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জারি করা একটি সার্কুলারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের মূলধন আগের বছরের তুলনায় কমে যায়নি, কেবল তারাই এই সুবিধা পাবে। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকের ডেফারেল সুবিধার প্রয়োজন নেই, তারাও এই নীতির আওতায় আসবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সর্বোচ্চ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাস অনুমোদন করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাতে কর্মীদের উৎসাহ বৃদ্ধি করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা। দীর্ঘদিন ধরে বোনাস বন্ধ থাকায় কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই শিথিলতা আনা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, যেসব ব্যাংক নিট মুনাফা করতে ব্যর্থ হবে কিংবা যাদের মূলধন ও প্রভিশনে ঘাটতি থাকবে, তারা কোনো ধরনের প্রণোদনা বোনাস দিতে পারবে না। সেই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক ব্যাংকে বোনাস বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

ব্যাংকারদের মতে, কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দক্ষ জনবল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। অনেক কর্মী ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ফলে দুর্বল ব্যাংকগুলো আরও চাপে পড়ে।

এ প্রেক্ষাপটে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বিধিনিষেধ শিথিলের দাবি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রণোদনা বোনাস না থাকলে কর্মীদের মনোবল কমে যায় এবং ব্যাংকের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

একজন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, “বোনাস না থাকলে দক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে চান। এতে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, দুর্বল আর্থিক অবস্থার ব্যাংকগুলো যেন এই সুযোগের অপব্যবহার না করে এবং প্রকৃত আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিগত পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে একদিকে কর্মীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এলেও, অন্যদিকে আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামনে এনে দিয়েছে।