সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“রোম পুড়লে নিরো হয়ে থাকবো না”—স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে তীব্র সমালোচনা জামায়াত আমিরের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮৩ Time View

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকায় থাকবেন না। “রোম পুড়লে নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না, বরং সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করবো”—এমন মন্তব্য করে তিনি সরকারকে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর শিশু হাসপাতাল-এ হাম আক্রান্ত রোগীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে আইসিইউ সুবিধা থাকলেও বাস্তবে অনেক হাসপাতালে তা কার্যকর নয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি দাবি করেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও অবকাঠামো অধিকাংশ জায়গায় অনুপস্থিত। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে এক ধরনের “ডিজাস্টার”-এ পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১ হাজার বেডের বিপরীতে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭শ রোগী ভর্তি রয়েছেন, আর প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়ার মতো জনবল, অবকাঠামো বা লজিস্টিক সহায়তা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হলে এই দুই খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সরকারের বক্তব্যে বাস্তব সংকটের প্রতিফলন পাওয়া যায় না, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে গেলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়—যেখানে সমস্যার পাহাড় জমে আছে।

এদিকে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় তেলের পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, পাম্পগুলো চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পাচ্ছে, যার ফলে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট থাকলে তা স্বীকার করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

পরিশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতির সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরা জরুরি, যাতে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

“রোম পুড়লে নিরো হয়ে থাকবো না”—স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে তীব্র সমালোচনা জামায়াত আমিরের

Update Time : ০৫:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকায় থাকবেন না। “রোম পুড়লে নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না, বরং সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করবো”—এমন মন্তব্য করে তিনি সরকারকে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর শিশু হাসপাতাল-এ হাম আক্রান্ত রোগীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে আইসিইউ সুবিধা থাকলেও বাস্তবে অনেক হাসপাতালে তা কার্যকর নয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি দাবি করেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও অবকাঠামো অধিকাংশ জায়গায় অনুপস্থিত। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে এক ধরনের “ডিজাস্টার”-এ পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১ হাজার বেডের বিপরীতে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭শ রোগী ভর্তি রয়েছেন, আর প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়ার মতো জনবল, অবকাঠামো বা লজিস্টিক সহায়তা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হলে এই দুই খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সরকারের বক্তব্যে বাস্তব সংকটের প্রতিফলন পাওয়া যায় না, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে গেলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়—যেখানে সমস্যার পাহাড় জমে আছে।

এদিকে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় তেলের পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, পাম্পগুলো চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পাচ্ছে, যার ফলে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট থাকলে তা স্বীকার করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

পরিশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতির সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরা জরুরি, যাতে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।