ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল, বেড়েছে আট গুণ
- Update Time : ১১:৩৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / ১২১ Time View

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকেও সরকার প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর থাকলেও পরিচালন ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে নেওয়া ঋণের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে সরকারি খরচ নির্বাহে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাত থেকে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকায়—অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ অনেকটাই ব্যাংকনির্ভর হয়ে পড়েছে। একসময় সঞ্চয়পত্র ছিল সরকারের প্রধান ঋণ উৎস, তবে মুনাফার হার কমে যাওয়ায় এ খাতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছে মাত্র ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা।
এর পরিবর্তে সরকার এখন উচ্চ সুদে বিল-বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ সংগ্রহ করছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েক বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকায় সরকারি ব্যাংকঋণ বৃদ্ধি সত্ত্বেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগে গতি ফিরলে এই উচ্চ ব্যাংকঋণ বেসরকারি খাতের জন্য অর্থায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।










