সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ ও তার দায়িত্বকাল তদন্ত করা দরকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩১০ Time View

 

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-কে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি এবং তাকে অপসারণও করা হয়নি। তবে এ পরিস্থিতির পর দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—তার দায়িত্বকাল কি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হবে?

মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে সরানোও হয়নি। গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর দেখেছি, তাই বাসায় চলে যাচ্ছি।” এর আগে সকালে তিনি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থিত হন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই তার কার্যালয় ত্যাগের ঘটনায় ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে নানা জল্পনা সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, দেশের স্বার্থে গভর্নরের পুরো দায়িত্বকাল নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতে ঋণ অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক নীতি নির্ধারণ এবং তদারকির কার্যকারিতা—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

তারা বলছেন, যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তা অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে হবে। যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়া হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলে আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে অভিযোগ থাকলে তা উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গভর্নরকে অপসারণ করা হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার দায়িত্বকাল নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন জনমনে আস্থা ফিরে আসবে, অন্যদিকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও জবাবদিহির আওতায় আসবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ ও তার দায়িত্বকাল তদন্ত করা দরকার

Update Time : ০৩:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-কে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি এবং তাকে অপসারণও করা হয়নি। তবে এ পরিস্থিতির পর দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—তার দায়িত্বকাল কি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হবে?

মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে সরানোও হয়নি। গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর দেখেছি, তাই বাসায় চলে যাচ্ছি।” এর আগে সকালে তিনি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থিত হন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই তার কার্যালয় ত্যাগের ঘটনায় ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে নানা জল্পনা সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, দেশের স্বার্থে গভর্নরের পুরো দায়িত্বকাল নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতে ঋণ অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক নীতি নির্ধারণ এবং তদারকির কার্যকারিতা—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

তারা বলছেন, যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তা অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে হবে। যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়া হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলে আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে অভিযোগ থাকলে তা উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গভর্নরকে অপসারণ করা হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার দায়িত্বকাল নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন জনমনে আস্থা ফিরে আসবে, অন্যদিকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও জবাবদিহির আওতায় আসবে।