সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের ঋণ নাকি অর্থনৈতিক ফাঁদ: কোন পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ?

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২৫ Time View

 

অবকাঠামো উন্নয়নের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে গত এক দশকে। কিন্তু অতিমূল্যায়ন, দুর্নীতি, প্রতিযোগিতাহীন চুক্তি ও দুর্বল সুশাসনের কারণে সেই ঋণ এখন অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে—এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে এক গবেষণায়। গবেষকদের ভাষ্য, ঋণ নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং তা থেকে প্রত্যাশিত আয় আদৌ আসছে কিনা।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ঋণ ও সুশাসন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীন একটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সহযোগিতায় একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এবং দেশের গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ।

ঋণের দ্রুত উল্লম্ফন

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারে—অর্থাৎ ১৬ বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৩৭৭ শতাংশ। একই সময়ে সুদ পরিশোধের দায়ও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয়ের জন্য আর্থিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে।

২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবহন, বিদ্যুৎ, বন্দর, বিমান চলাচল ও শিল্পাঞ্চলসহ ৪২টি বড় প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২৯টিতে গড়ে ৭০ শতাংশের বেশি ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয়ের ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অদক্ষতা, দুর্নীতি বা যোগসাজশের কারণে অপচয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাঠামোগত সমস্যা চুক্তির ঝুঁকি

অর্থনীতিবিদ মুশতাক এইচ খান বলেন, চুক্তির দামে সামান্য অতিরিক্ত নির্ধারণও দীর্ঘমেয়াদে বিশাল আর্থিক দায় তৈরি করে। কয়েক সেন্ট বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনলেও ২০–২৫ বছরে তা বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ব্যয়ে রূপ নেয়। তাঁর মতে, মূল ঝুঁকি ঋণের পরিমাণে নয়; বরং প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল জবাবদিহিতায়।

গবেষণায় অবকাঠামো প্রকল্পে দুই ধরনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, প্রকল্প সঠিকভাবে নির্মিত হলেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আয় দিয়ে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, দুর্বল পরিকল্পনা ও ত্রুটিপূর্ণ বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে পারে না—ফলে আয় কম হয়, কিন্তু ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়।

বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ

গবেষণায় বিদ্যুৎ খাতকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্থির সক্ষমতা চার্জ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক বা না হোক, চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির কারণে বছরে প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে খুচরা পর্যায়ে দাম সহনীয় থাকে। এই ভর্তুকি তুলে নিলে বিদ্যুতের দাম ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।

২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদকদের পরিশোধ ১১ গুণ এবং সক্ষমতা চার্জ ২০ গুণ বেড়েছে, অথচ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র চার গুণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে অলস থাকলেও চুক্তির শর্তে অর্থ পরিশোধ অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

গবেষণায় ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়। দেশটির প্রায় ৬৫ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত আয় দিতে ব্যর্থ হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষর আমলে নেওয়া একাধিক প্রকল্প পরবর্তীতে অকার্যকর হয়ে পড়ে। আয় না বাড়লেও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত দেশটি গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশেও ঋণ-জিডিপি অনুপাত সংশোধিত হিসাবে এখন প্রায় ৪২ শতাংশ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৬৫–৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনীতিকে উচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

সংস্কার জবাবদিহির আহ্বান

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারে বলেন, ঋণ গ্রহণকে অবশ্যই টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ছাড়া ঋণ উন্নয়নে রূপান্তরিত হবে না।

এফসিডিওর গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার এমা উইন্ড মত দেন, এলডিসি উত্তরণের প্রাক্কালে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার আর বিলম্ব করা যাবে না। সুশাসন জোরদার ও স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডর পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা জানান, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র চালুর ফলে সৌরবিদ্যুতের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংগঠন বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির বদলে গ্রিডসংলগ্ন জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এখন কৌশলগত প্রয়োজন।

গোলটেবিলে বক্তারা সুপারিশ করেন—দরপত্র প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত তথ্য প্রকাশ, প্রকল্প শুরুর আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই, কর্মসম্পাদনের সঙ্গে অর্থ ছাড় যুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ঋণনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভারী আর্থিক দায় তৈরি করবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

উন্নয়নের ঋণ নাকি অর্থনৈতিক ফাঁদ: কোন পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ?

Update Time : ০৩:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অবকাঠামো উন্নয়নের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে গত এক দশকে। কিন্তু অতিমূল্যায়ন, দুর্নীতি, প্রতিযোগিতাহীন চুক্তি ও দুর্বল সুশাসনের কারণে সেই ঋণ এখন অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে—এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে এক গবেষণায়। গবেষকদের ভাষ্য, ঋণ নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং তা থেকে প্রত্যাশিত আয় আদৌ আসছে কিনা।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ঋণ ও সুশাসন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীন একটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সহযোগিতায় একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এবং দেশের গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ।

ঋণের দ্রুত উল্লম্ফন

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারে—অর্থাৎ ১৬ বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৩৭৭ শতাংশ। একই সময়ে সুদ পরিশোধের দায়ও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয়ের জন্য আর্থিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে।

২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবহন, বিদ্যুৎ, বন্দর, বিমান চলাচল ও শিল্পাঞ্চলসহ ৪২টি বড় প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২৯টিতে গড়ে ৭০ শতাংশের বেশি ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয়ের ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অদক্ষতা, দুর্নীতি বা যোগসাজশের কারণে অপচয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাঠামোগত সমস্যা চুক্তির ঝুঁকি

অর্থনীতিবিদ মুশতাক এইচ খান বলেন, চুক্তির দামে সামান্য অতিরিক্ত নির্ধারণও দীর্ঘমেয়াদে বিশাল আর্থিক দায় তৈরি করে। কয়েক সেন্ট বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনলেও ২০–২৫ বছরে তা বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ব্যয়ে রূপ নেয়। তাঁর মতে, মূল ঝুঁকি ঋণের পরিমাণে নয়; বরং প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল জবাবদিহিতায়।

গবেষণায় অবকাঠামো প্রকল্পে দুই ধরনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, প্রকল্প সঠিকভাবে নির্মিত হলেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আয় দিয়ে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, দুর্বল পরিকল্পনা ও ত্রুটিপূর্ণ বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে পারে না—ফলে আয় কম হয়, কিন্তু ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়।

বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ

গবেষণায় বিদ্যুৎ খাতকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্থির সক্ষমতা চার্জ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক বা না হোক, চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির কারণে বছরে প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে খুচরা পর্যায়ে দাম সহনীয় থাকে। এই ভর্তুকি তুলে নিলে বিদ্যুতের দাম ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।

২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদকদের পরিশোধ ১১ গুণ এবং সক্ষমতা চার্জ ২০ গুণ বেড়েছে, অথচ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র চার গুণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে অলস থাকলেও চুক্তির শর্তে অর্থ পরিশোধ অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

গবেষণায় ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়। দেশটির প্রায় ৬৫ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত আয় দিতে ব্যর্থ হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষর আমলে নেওয়া একাধিক প্রকল্প পরবর্তীতে অকার্যকর হয়ে পড়ে। আয় না বাড়লেও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত দেশটি গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশেও ঋণ-জিডিপি অনুপাত সংশোধিত হিসাবে এখন প্রায় ৪২ শতাংশ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৬৫–৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনীতিকে উচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

সংস্কার জবাবদিহির আহ্বান

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারে বলেন, ঋণ গ্রহণকে অবশ্যই টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ছাড়া ঋণ উন্নয়নে রূপান্তরিত হবে না।

এফসিডিওর গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার এমা উইন্ড মত দেন, এলডিসি উত্তরণের প্রাক্কালে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার আর বিলম্ব করা যাবে না। সুশাসন জোরদার ও স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডর পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা জানান, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র চালুর ফলে সৌরবিদ্যুতের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংগঠন বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির বদলে গ্রিডসংলগ্ন জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এখন কৌশলগত প্রয়োজন।

গোলটেবিলে বক্তারা সুপারিশ করেন—দরপত্র প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত তথ্য প্রকাশ, প্রকল্প শুরুর আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই, কর্মসম্পাদনের সঙ্গে অর্থ ছাড় যুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ঋণনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভারী আর্থিক দায় তৈরি করবে।