ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান আসছে!
- Update Time : ০২:০৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৭২ Time View

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এবার এক যুগান্তকারী মোড়ে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ঋণখেলাপির পাহাড় ভাঙতে অবশেষে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ব্যাংকগুলো। দেশের শীর্ষ ব্যাংকারদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট দাবি তোলা হয়েছে—ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আর কোনো নরম নীতি নয়, এবার চাই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।
ব্যাংকারদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় ঋণখেলাপিদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা, গণমাধ্যমে নাম ও ছবি প্রকাশ করা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্সে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। উদ্দেশ্য একটাই—ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি সংস্কৃতির অবসান ঘটানো এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
এই দাবির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ঋণখেলাপির ভয়াবহ পরিসংখ্যান। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৫ শতাংশই এখন খেলাপি—যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায়ও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে থাকায় নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, শিল্প খাত দুর্বল হচ্ছে এবং সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং আইনের শিথিল প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বারবার ঋণ পুনঃতফসিল ও সুবিধা আদায় করেছে। ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীরা হয়েছে নিরুৎসাহিত, আর খেলাপিরা পেয়েছে নানান ছাড়। এই অসাম্যই আজ ব্যাংক খাতকে এক গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সত্যিই কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর হলে ব্যাংকে অর্থপ্রবাহ বাড়বে, নতুন উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে উৎসাহিত হবেন এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলার ভাবমূর্তি উন্নত হবে।
তবে বিশ্লেষকরা এটাও সতর্ক করে বলছেন—এই অভিযান যেন কেবল কাগজে-কলমে বা নির্বাচনী সময়ের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রকৃত সংস্কারের জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সবার জন্য সমান আইনের প্রয়োগ। বড় ঋণখেলাপি হোক বা প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী—কারও জন্য যেন বিশেষ সুবিধা না থাকে।
সব মিলিয়ে, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আসন্ন এই কঠোর অভিযান যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু ব্যাংক খাত নয়, পুরো জাতীয় অর্থনীতির জন্যই হতে পারে এক নতুন শুরু।










