দেশের ছয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত
- Update Time : ১১:৪৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৮ Time View

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চরম সংকটে থাকা নয়টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আপাতত প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে (বিআইএফসি) অবসায়নে না নিয়ে তাদের আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ঋণের অর্থ আত্মসাতের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুনানি ও নথি পর্যালোচনা শেষে বোর্ড তিনটি প্রতিষ্ঠানকে শেষ সুযোগ দিলেও বাকি ছয়টির অবসায়ন কার্যক্রম প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এই বিপুল অর্থ লোপাটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রুগ্ন এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজান শুরুর আগেই তাদের জমা রাখা মূল অর্থ ফেরত পাবেন।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্দেশ্যে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে সম্মতি দিয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, আমানতকারীরা কেবল তাদের জমা রাখা মূল অর্থ ফেরত পাবেন, এর ওপর কোনো সুদ দেওয়া হবে না।
ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে শেয়ারহোল্ডারদের পাওনা নির্ধারণ করা হবে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় থাকা হাজারো আমানতকারীর জন্য এই সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।










