সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: লেনদেন শুরু হলেও সব শাখায় টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৪০ Time View

 

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন শুরু করেছে। তবে প্রথম দিনেই সব শাখায় গ্রাহকদের জন্য প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক শাখায় টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী রোববার বা সোমবার থেকে ধাপে ধাপে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনের পূর্ণ সুবিধা পাবেন। এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয় ও কিছু শাখায় নতুন নামের সাইনবোর্ড লাগানো হলেও আপাতত পুরোনো ব্যাংকগুলোর নামও পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে সব শাখার সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে।

গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একীভূত হওয়ার পরও টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি কমেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক শাখায় তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার বেশি দেওয়া হয়নি। আবার কিছু শাখায় নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পেয়েছেন গ্রাহকরা।

রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম দিনে গ্রাহকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। শাখা ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিন হওয়ায় অনেক গ্রাহক পরিস্থিতি বুঝে আসতে চাননি। তবে চলতি সপ্তাহ থেকে উত্তোলনের চাপ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

রামপুরার বনশ্রী এলাকায় অবস্থিত সাবেক এক্সিম ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সেখানে আসা গ্রাহক এইচ রহমান বলেন, “ব্যাংকে টাকা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তুলতে পারছি না। বৃহস্পতিবার থেকে টাকা পাওয়া যাবে শুনে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে। ব্যাংক বলছে, রোববার বা সোমবারের পর আসতে।”

একই চিত্র দেখা গেছে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের সাবেক এক্সিম ব্যাংক শাখাতেও। সেখানে মঈনুল হোসেন নামে এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েক মাস ধরে নিজের টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে, অথচ সংসার চালাতে অন্যের কাছ থেকে ধার নিতে হচ্ছে।”

সাবেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি ও মিরপুর শাখার গ্রাহকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক রেজওয়ান হাসান জানান, প্রথম দিন শাখায় পর্যাপ্ত ফান্ড না আসায় গ্রাহকদের পুরোপুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্বল্প পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং এই সপ্তাহ থেকে নিয়ম অনুযায়ী টাকা দেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে মহাখালী শাখায় তুলনামূলক ভালো চিত্র দেখা গেছে। সেখানে শাখা ব্যবস্থাপক কে এম খালিদ তৈমুর রানা জানান, সঞ্চয়ী হিসাবধারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পেরেছেন। তবে প্রথম দিন হওয়ায় গ্রাহকের উপস্থিতি কম ছিল।

উল্লেখ্য, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংক একত্রে নতুন নাম পেয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ইতোমধ্যে অনেক শাখায় পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন নামের ব্যানার লাগানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের সুরক্ষায় একটি রেজল্যুশন স্কিম চূড়ান্ত করেছে। এই স্কিম অনুযায়ী, যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত রয়েছে, তারা যেকোনো সময় একবারে পুরো অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন।

এ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক এবং ক্যানসার বা কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধা রাখা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও টাকা তুলতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, একীভূত প্রক্রিয়ার আওতায় পাঁচ ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত, সম্পদ, দায়-দেনা এবং পূর্বের সব চুক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে আপাতত গ্রাহকদের নতুন চেকবই বা কাগজপত্র নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরোনো ব্যাংকের নামে ছাপানো চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ ও অন্যান্য দলিলই বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগে স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং নতুন করে জমা দেওয়া আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: লেনদেন শুরু হলেও সব শাখায় টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা

Update Time : ১১:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন শুরু করেছে। তবে প্রথম দিনেই সব শাখায় গ্রাহকদের জন্য প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক শাখায় টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী রোববার বা সোমবার থেকে ধাপে ধাপে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনের পূর্ণ সুবিধা পাবেন। এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয় ও কিছু শাখায় নতুন নামের সাইনবোর্ড লাগানো হলেও আপাতত পুরোনো ব্যাংকগুলোর নামও পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে সব শাখার সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে।

গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একীভূত হওয়ার পরও টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি কমেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক শাখায় তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার বেশি দেওয়া হয়নি। আবার কিছু শাখায় নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পেয়েছেন গ্রাহকরা।

রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম দিনে গ্রাহকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। শাখা ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিন হওয়ায় অনেক গ্রাহক পরিস্থিতি বুঝে আসতে চাননি। তবে চলতি সপ্তাহ থেকে উত্তোলনের চাপ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

রামপুরার বনশ্রী এলাকায় অবস্থিত সাবেক এক্সিম ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সেখানে আসা গ্রাহক এইচ রহমান বলেন, “ব্যাংকে টাকা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তুলতে পারছি না। বৃহস্পতিবার থেকে টাকা পাওয়া যাবে শুনে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে। ব্যাংক বলছে, রোববার বা সোমবারের পর আসতে।”

একই চিত্র দেখা গেছে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের সাবেক এক্সিম ব্যাংক শাখাতেও। সেখানে মঈনুল হোসেন নামে এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েক মাস ধরে নিজের টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে, অথচ সংসার চালাতে অন্যের কাছ থেকে ধার নিতে হচ্ছে।”

সাবেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি ও মিরপুর শাখার গ্রাহকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক রেজওয়ান হাসান জানান, প্রথম দিন শাখায় পর্যাপ্ত ফান্ড না আসায় গ্রাহকদের পুরোপুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্বল্প পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং এই সপ্তাহ থেকে নিয়ম অনুযায়ী টাকা দেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে মহাখালী শাখায় তুলনামূলক ভালো চিত্র দেখা গেছে। সেখানে শাখা ব্যবস্থাপক কে এম খালিদ তৈমুর রানা জানান, সঞ্চয়ী হিসাবধারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পেরেছেন। তবে প্রথম দিন হওয়ায় গ্রাহকের উপস্থিতি কম ছিল।

উল্লেখ্য, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংক একত্রে নতুন নাম পেয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ইতোমধ্যে অনেক শাখায় পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন নামের ব্যানার লাগানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের সুরক্ষায় একটি রেজল্যুশন স্কিম চূড়ান্ত করেছে। এই স্কিম অনুযায়ী, যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত রয়েছে, তারা যেকোনো সময় একবারে পুরো অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন।

এ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক এবং ক্যানসার বা কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধা রাখা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও টাকা তুলতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, একীভূত প্রক্রিয়ার আওতায় পাঁচ ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত, সম্পদ, দায়-দেনা এবং পূর্বের সব চুক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে আপাতত গ্রাহকদের নতুন চেকবই বা কাগজপত্র নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরোনো ব্যাংকের নামে ছাপানো চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ ও অন্যান্য দলিলই বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগে স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং নতুন করে জমা দেওয়া আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।