সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৪৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৩ Time View

 

নিজেদের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িং কোম্পানির বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, পরিচালনা পর্ষদ নীতিগতভাবে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাম, ডেলিভারি সময়সূচি এবং অন্যান্য শর্ত নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুমোদিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগেই বোয়িং থেকে বিমান কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে বিমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মতে, দেশের এভিয়েশন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক—উভয় ক্ষেত্রেই কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র আরও জানায়, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিমানগুলো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

কর্মকর্তারা জানান, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ব্যবহৃত বড় আকারের (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ। অন্যদিকে বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মাঝারি আকারের (ন্যারো বডি), যা মূলত আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহারের উপযোগী।

নতুন এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের পরিচালন সক্ষমতা ও রুট নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বোসরা ইসলাম বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বিমান বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়বে, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এভিয়েশন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

Update Time : ০৮:৪৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

 

নিজেদের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িং কোম্পানির বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, পরিচালনা পর্ষদ নীতিগতভাবে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাম, ডেলিভারি সময়সূচি এবং অন্যান্য শর্ত নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুমোদিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগেই বোয়িং থেকে বিমান কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে বিমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মতে, দেশের এভিয়েশন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক—উভয় ক্ষেত্রেই কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র আরও জানায়, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিমানগুলো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

কর্মকর্তারা জানান, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ব্যবহৃত বড় আকারের (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ। অন্যদিকে বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মাঝারি আকারের (ন্যারো বডি), যা মূলত আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহারের উপযোগী।

নতুন এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের পরিচালন সক্ষমতা ও রুট নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বোসরা ইসলাম বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বিমান বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়বে, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এভিয়েশন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।”