১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আরও কমার ইঙ্গিত
- Update Time : ১১:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৪৯ Time View

নতুন বছরের শুরু থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আরও কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রস্তাব অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন পেলেই সংশোধিত মুনাফার হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বিদ্যমান মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমানো হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর দাবি দীর্ঘদিনের। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের তারল্য বিবেচনায় নিয়েই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, স্বল্প অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি হার বজায় রাখা এবং এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কমানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিত ভিত্তিতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় গড় মুনাফা কিছুটা কমিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ছয় মাস পর আবারও হার পুনর্নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছিল। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, মুনাফার হার বাড়বে নাকি কমবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে সে অনুযায়ী পরিপত্র জারি করা হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে এই হার যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হারে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
এদিকে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলনামূলক বেশি থাকায় বড় অঙ্কের সঞ্চয় সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে। হার কিছুটা কমানো হলে সেই অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। গত অক্টোবর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।










