সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হতে পারে আগামী সপ্তাহের মধ্যে
- Update Time : ১০:৩২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৮ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া আগামী সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে। এটি ব্যাংকের সংযুক্তির প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে গভর্নর এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলমান। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডিপোজিট গ্যারান্টির পরিমাণ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা তাদের আমানত ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা পাচ্ছেন।
গভর্নর ড. মনসুর আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শ অনুযায়ী বাজারভিত্তিক ডলারের মূল্য নির্ধারণের পথে এখনও যায়নি। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি এটি করা হতো, তবে ডলারের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারতো। বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য সুবিধাজনক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগের সময়ে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি দায় পরিশোধের জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। তখন এলসি খোলার ক্ষেত্রে গ্যারান্টি সুবিধা কম ছিল। মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার সময় ডলারের দর ছিল ১২০ টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
গভর্নর বলেন, সরকারের ভেতর ও বাইরে সুদহার কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। সুদের হারের নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বর্তমানে মুদ্রাবাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। আমানত হার বৃদ্ধি পেয়েছে, বাজেট সহায়তার জন্য অতিরিক্ত টাকা ছাপানো বন্ধ হয়েছে এবং ডলার বিক্রিও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এনবিআর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করলে সরকারের ঋণের চাপ কমবে এবং আমানত আরও বাড়বে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের আমানত দ্রুত ফেরত পেতে পারবে এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় হবে।










