সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা ঋণের ফাঁদে পড়েছি: এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্বেগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৪০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১১৬ Time View

 

দেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ঋণের ফাঁদে পড়েছি। যদি এই সত্যকে স্বীকার না করি, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সফলভাবে এগোতে পারবে না।”

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ এবং ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ প্রকাশ ও উপস্থাপনের উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজন করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কয়েক বছর আগে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ৭ শতাংশের ঘরে রয়েছে। এই হ্রাসের মূল কারণ হলো, জিডিপির সব খাত থেকে সমপরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সমস্যার সঠিক চিহ্নিতকরণ ছাড়া ঋণের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এনবিআর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, এনবিআর দুই ভাগ হয়ে দুটি সচিবের নেতৃত্বে কাজ শুরু করবে, যা কর সংগ্রহ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সেমিনারে জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ডিপোজিট গ্যারান্টি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এই ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকসহ প্রায় ৭৬ লাখ পরিবার তাদের আমানত ফেরত পাবে। নতুন ব্যাংকটি প্রথম বা দ্বিতীয় বছরের মধ্যে মুনাফার মুখ দেখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, “ঋণের ফাঁদে পড়া আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে না। ঋণ পরিশোধের জন্য পুনরায় ঋণ নিতে হবে। ইতিমধ্যে রাজস্ব বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন প্রধান খাত হিসেবে ছিল, এরপর কৃষি ও শিক্ষা খাত। কিন্তু বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য এই খাতগুলোর জায়গা সরে গেছে।”

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আমরা ঋণের ফাঁদে পড়েছি: এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্বেগ

Update Time : ১০:৪০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ঋণের ফাঁদে পড়েছি। যদি এই সত্যকে স্বীকার না করি, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সফলভাবে এগোতে পারবে না।”

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ এবং ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ প্রকাশ ও উপস্থাপনের উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজন করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কয়েক বছর আগে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ৭ শতাংশের ঘরে রয়েছে। এই হ্রাসের মূল কারণ হলো, জিডিপির সব খাত থেকে সমপরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সমস্যার সঠিক চিহ্নিতকরণ ছাড়া ঋণের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এনবিআর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, এনবিআর দুই ভাগ হয়ে দুটি সচিবের নেতৃত্বে কাজ শুরু করবে, যা কর সংগ্রহ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সেমিনারে জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ডিপোজিট গ্যারান্টি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এই ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকসহ প্রায় ৭৬ লাখ পরিবার তাদের আমানত ফেরত পাবে। নতুন ব্যাংকটি প্রথম বা দ্বিতীয় বছরের মধ্যে মুনাফার মুখ দেখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, “ঋণের ফাঁদে পড়া আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে না। ঋণ পরিশোধের জন্য পুনরায় ঋণ নিতে হবে। ইতিমধ্যে রাজস্ব বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন প্রধান খাত হিসেবে ছিল, এরপর কৃষি ও শিক্ষা খাত। কিন্তু বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য এই খাতগুলোর জায়গা সরে গেছে।”

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।