সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৫ Time View

দেশের বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের অস্থিতিশীল দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আবারও সীমিত আকারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী রোববার (ডিসেম্বর) থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি আমদানি অনুমতি (আইপি) ইস্যু করা হবে। প্রতিটি আইপির আওতায় একজন আমদানিকারক সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান—

  • চলতি বছরের আগস্ট থেকে যারা পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছিলেন, কেবল তারাই পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
  • একজন আমদানিকারক শুধুমাত্র একবার আবেদন করতে পারবেন।
  • বাজার যতদিন ‘সহনীয়’ পর্যায়ে না আসে, ততদিন এই সীমিত অনুমতির ব্যবস্থা চালু থাকবে।

হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ

গত মাসে পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। মাত্র ৪–৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে কেজিপ্রতি দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

  • খুচরা বাজারে দাম উঠে যায় ১১৫–১২০ টাকাতে।
  • সরকার আমদানির ইঙ্গিত দেওয়ার পর দাম কিছুটা নেমে ১০৫–১১০ টাকায় এলেও
  • গত সপ্তাহে আবারও কেজিতে ১০ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে ১১৫–১২০ টাকা ঘরে ফিরে যায়।

সরকারের দাবি—দেশে এখনও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, এবং নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ খুব শিগগির বাজারে আসবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আগেই আমদানি বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক মজুতদার সুযোগ নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

টিসিবির তথ্য বাজারের বাস্তবতা

টিসিবির মতে, গত বছরের তুলনায় এখনও পেঁয়াজের দাম ১০ শতাংশ কম

  • বাজারে পাতাযুক্ত দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকা কেজি
  • তবে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ এখনো বাজারে ওঠেনি, ফলে দাম কিছুটা চড়া থাকতে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে ‘দামের চাপ’ তৈরি হয়েছে। কৃষক ও মজুতদার পর্যায়ে দাম বাড়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

সরকারের আগের সতর্কবার্তা

গত নভেম্বর, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন—
“চার–পাঁচ দিনের মধ্যে দাম না কমলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান—

  • সরকারের কাছে বর্তমানে হাজার ৮০০টি আমদানির আবেদন রয়েছে।
  • এর ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেই দেশে পেঁয়াজে ‘সয়লাব’ হতে পারে।

তবে কৃষকের ক্ষতি যাতে না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সারসংক্ষেপ

সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য। তবে আমদানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায়। এখন দেখার বিষয়—এই নতুন নীতির ফলে পেঁয়াজের বাজার কতটা স্থিতিশীল হয় এবং ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব কেমন পড়ে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

Update Time : ০৯:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের অস্থিতিশীল দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আবারও সীমিত আকারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী রোববার (ডিসেম্বর) থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি আমদানি অনুমতি (আইপি) ইস্যু করা হবে। প্রতিটি আইপির আওতায় একজন আমদানিকারক সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান—

  • চলতি বছরের আগস্ট থেকে যারা পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছিলেন, কেবল তারাই পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
  • একজন আমদানিকারক শুধুমাত্র একবার আবেদন করতে পারবেন।
  • বাজার যতদিন ‘সহনীয়’ পর্যায়ে না আসে, ততদিন এই সীমিত অনুমতির ব্যবস্থা চালু থাকবে।

হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ

গত মাসে পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। মাত্র ৪–৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে কেজিপ্রতি দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

  • খুচরা বাজারে দাম উঠে যায় ১১৫–১২০ টাকাতে।
  • সরকার আমদানির ইঙ্গিত দেওয়ার পর দাম কিছুটা নেমে ১০৫–১১০ টাকায় এলেও
  • গত সপ্তাহে আবারও কেজিতে ১০ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে ১১৫–১২০ টাকা ঘরে ফিরে যায়।

সরকারের দাবি—দেশে এখনও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, এবং নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ খুব শিগগির বাজারে আসবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আগেই আমদানি বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক মজুতদার সুযোগ নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

টিসিবির তথ্য বাজারের বাস্তবতা

টিসিবির মতে, গত বছরের তুলনায় এখনও পেঁয়াজের দাম ১০ শতাংশ কম

  • বাজারে পাতাযুক্ত দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকা কেজি
  • তবে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ এখনো বাজারে ওঠেনি, ফলে দাম কিছুটা চড়া থাকতে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে ‘দামের চাপ’ তৈরি হয়েছে। কৃষক ও মজুতদার পর্যায়ে দাম বাড়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

সরকারের আগের সতর্কবার্তা

গত নভেম্বর, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন—
“চার–পাঁচ দিনের মধ্যে দাম না কমলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান—

  • সরকারের কাছে বর্তমানে হাজার ৮০০টি আমদানির আবেদন রয়েছে।
  • এর ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেই দেশে পেঁয়াজে ‘সয়লাব’ হতে পারে।

তবে কৃষকের ক্ষতি যাতে না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সারসংক্ষেপ

সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য। তবে আমদানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায়। এখন দেখার বিষয়—এই নতুন নীতির ফলে পেঁয়াজের বাজার কতটা স্থিতিশীল হয় এবং ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব কেমন পড়ে।