অবশেষে বাংলাদেশে আসছে পেপ্যাল, জেনে নিন সুবিধা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
- Update Time : ০৪:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৭২ Time View

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল (PayPal) শিগগিরই বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গভর্নর জানান, পেপ্যাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ ও ই–কমার্স খাতের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেনের দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হবে। বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আয় গ্রহণ, রেমিট্যান্স সংগ্রহ এবং অনলাইন পেমেন্ট আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
পেপ্যাল কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পেপ্যাল একটি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, যা ব্যবহার করে অনলাইনে টাকা পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধ এবং কেনাকাটা করা যায়। বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে পেপ্যাল ব্যবহৃত হয় এবং এর ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩৬০ মিলিয়নেরও বেশি। বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ সেবা না থাকায় ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন ছিলেন।
গভর্নরের মতে, পেপ্যাল চালু হলে:
- আন্তর্জাতিক লেনদেন দ্রুততর হবে,
- জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে,
- বৈদেশিক মুদ্রার অর্জন বৃদ্ধি পাবে,
- আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর সম্ভাব্য ৫টি বড় সুবিধা
১. দ্রুত আয় গ্রহণ: ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা কয়েক মিনিটের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন।
২. মার্কেটপ্লেস সংযোগ সহজ: Upwork, Fiverr, Freelancer.com-এর লেনদেন সরাসরি পেপ্যালের মাধ্যমে করা যাবে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি: পেপ্যাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়বে।
৪. স্টার্টআপ ও ই–কমার্স খাতের উত্থান: আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ও সেবা বিক্রি সহজ হওয়ায় স্টার্টআপগুলো বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
৫. নিরাপদ লেনদেন: পেপ্যালের শক্তিশালী পারচেজ প্রটেকশন এবং ফ্রড মনিটরিং ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়াবে।
বাস্তবায়ন
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অফিসিয়ালি পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। তবে গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, শিগগিরই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ উন্মুক্ত হবে। আগেও ২০১৭ সালে পেপ্যাল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা স্থগিত হয়েছিল।
এদিকে পেপ্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘জুম’ (Xoom) সীমিত সেবা প্রদান করছে, যা ফ্রিল্যান্সারদের প্রধান চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। পেপ্যাল চালু হলে বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি নগদ নির্ভরতা কমে অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।
গভর্নর আরও জানান, প্রতি বছর নগদ লেনদেন পরিচালনার জন্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ধাপে ধাপে নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
পেপ্যাল চালু হলে শুধু ফ্রিল্যান্সিং ও ই–কমার্স নয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলোও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে গভর্নর কৃষিখাতে অবদান রাখার জন্য ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেন। তিনি জানান, কৃষি খাতে ঋণ বর্তমানে মাত্র ২%, যা বাড়িয়ে ১০%-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অর্জনও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে পেপ্যালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা খাত নতুন সম্ভাবনার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ঘোষণা ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা শিগগিরই নাগরিকরা বাস্তবে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবেন কখন তা দেখার।










