সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু, গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাবেন যেভাবে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৪২৮ Time View

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং লাইসেন্স পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) থেকে এই নতুন ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগের দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের একীভবনকে কার্যকর করে তোলে।

মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে প্রতিষ্ঠিত প্রধান কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এতে ব্যাংকটির লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও গ্রাহকসেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট অস্থিরতা দূর করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই বৃহৎ একীভবনের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ ব্যাংকের হাজারো গ্রাহক তাদের আটকে থাকা জমা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেই সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে বড় অঙ্কের আমানত ফেরতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সকল গ্রাহকই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের অর্থ ফিরে পেতে পারেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার সরাসরি বিনিয়োগ করবে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকী ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অংশীদারিত্ব থেকে, যা নতুন ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই ব্যাংক দেশের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু, গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাবেন যেভাবে

Update Time : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং লাইসেন্স পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) থেকে এই নতুন ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগের দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের একীভবনকে কার্যকর করে তোলে।

মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে প্রতিষ্ঠিত প্রধান কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এতে ব্যাংকটির লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও গ্রাহকসেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট অস্থিরতা দূর করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই বৃহৎ একীভবনের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ ব্যাংকের হাজারো গ্রাহক তাদের আটকে থাকা জমা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেই সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে বড় অঙ্কের আমানত ফেরতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সকল গ্রাহকই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের অর্থ ফিরে পেতে পারেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার সরাসরি বিনিয়োগ করবে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকী ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অংশীদারিত্ব থেকে, যা নতুন ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই ব্যাংক দেশের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।