সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চূড়ান্ত অনুমোদন পেল দেশের বৃহত্তম সরকারি ইসলামী ব্যাংক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬১ Time View

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হলো। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও নানা মূল্যায়নের পর অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে দেশের বৃহত্তম ও সরকারি মালিকানাধীন নতুন ইসলামী ব্যাংক— সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। এর মধ্যদিয়ে বহুদিন ধরে সমস্যায় জর্জরিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি শক্তিশালী, সুশাসন-নির্ভর ও স্থিতিশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ সফল হলো।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভায় নতুন ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।

একীভূতকরণের উদ্দেশ্য সরকারি ভূমিকা

গত কয়েক বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট, শেয়ারহোল্ডার সমস্যাসহ ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছিল। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে এ একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৯ নভেম্বর প্রাথমিক অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ (আরজেএসসি) থেকে কোম্পানির নাম অনুমোদন, নতুন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব খোলা এবং আইনগত সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে সরকার।

পুঁজির পরিমাণ: ইতিহাসের সর্বোচ্চ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যাংকটির মোট পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে—

  • সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা
  • অমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসছে ১৫ হাজার কোটি টাকা

প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মতিঝিল অফিসে নতুন ব্যাংকের হিসাব খোলার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান

কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একীভূত ব্যাংকের আইটি সিস্টেম, গ্রাহক হিসাব স্থানান্তর, শাখা পুনর্গঠন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা– সব কিছু দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংককে একীভূত করে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হলে—

  • ইসলামী ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে,
  • আমানতকারীরা নিরাপদ বোধ করবেন,
  • তারল্য চাপ কমবে,
  • আর্থিক অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে,
  • এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

এটি একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চূড়ান্ত অনুমোদন পেল দেশের বৃহত্তম সরকারি ইসলামী ব্যাংক

Update Time : ০৯:৫১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হলো। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও নানা মূল্যায়নের পর অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে দেশের বৃহত্তম ও সরকারি মালিকানাধীন নতুন ইসলামী ব্যাংক— সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। এর মধ্যদিয়ে বহুদিন ধরে সমস্যায় জর্জরিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি শক্তিশালী, সুশাসন-নির্ভর ও স্থিতিশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ সফল হলো।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভায় নতুন ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।

একীভূতকরণের উদ্দেশ্য সরকারি ভূমিকা

গত কয়েক বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট, শেয়ারহোল্ডার সমস্যাসহ ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছিল। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে এ একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৯ নভেম্বর প্রাথমিক অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ (আরজেএসসি) থেকে কোম্পানির নাম অনুমোদন, নতুন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব খোলা এবং আইনগত সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে সরকার।

পুঁজির পরিমাণ: ইতিহাসের সর্বোচ্চ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যাংকটির মোট পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে—

  • সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা
  • অমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসছে ১৫ হাজার কোটি টাকা

প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মতিঝিল অফিসে নতুন ব্যাংকের হিসাব খোলার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান

কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একীভূত ব্যাংকের আইটি সিস্টেম, গ্রাহক হিসাব স্থানান্তর, শাখা পুনর্গঠন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা– সব কিছু দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংককে একীভূত করে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হলে—

  • ইসলামী ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে,
  • আমানতকারীরা নিরাপদ বোধ করবেন,
  • তারল্য চাপ কমবে,
  • আর্থিক অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে,
  • এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

এটি একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।