সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
- Update Time : ০৬:১৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৮৯ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর কার্যক্রম আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে। এই ব্যাংকটি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করবে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতি এবং পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের সঞ্চিত চ্যালেঞ্জগুলো আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হিসেবে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
তিনি এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং প্রতিবন্ধকতাসমূহ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পণ্যের এলসি খোলার হার এই মুহূর্তে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। গভর্নর বলেন, “আমাদের এক্সটারনাল সেক্টর স্থিতিশীল আছে এবং ব্যাংকিং খাতে ডলারের কোনো ঘাটতি নেই। দেশের যেকোনো বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় পরিমাণ ডলার সহজেই কিনতে পারবে যদি তারা বাংলাদেশের টাকা নিয়ে আসে।”
মূল্যস্ফীতির বিষয়েও গভর্নর চিন্তা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসে শুধু চালের দাম ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। তিনি যুক্তি দেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। আমদানি বন্ধ রাখলে দাম বেড়ে যাবে, এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশে দাম কমলেও আমাদের দেশে তা প্রভাব ফেলবে না।”
গভর্নর আরও জানান, বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন জরুরি। ডিপোজিটের হার বর্তমানে ৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। যদি সরকার ব্যাংক থেকে নগদ টাকা কম নেন, তবে ডিপোজিট আরও বৃদ্ধি পাবে।
অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি নয়টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অতি দ্রুত অবসায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার (Economies Future Trajectory and Political Commitment)”।
সূত্র: ইউএনবি










