ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ
- Update Time : ০৪:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৭৮ Time View

১৮৯ কোটি টাকার দুর্নীতি ও ঋণ জালিয়াতির মামলায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতে হাজির ও আটকাদেশ
ওবায়েদ উল্লাহকে বুধবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ জালাল তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এসময় আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন দাখিল করা হয়নি।
এর আগে সকালে ধানমণ্ডির নিজ বাসা থেকে দুদক তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার পটভূমি
গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুদক অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আব্দুল হামিদ, নুরজাহান গ্রুপের পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিস্তারিত
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—
মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের নামে ছোলা ও গম আমদানির জন্য ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এ সুবিধার প্রকৃত ভোগকারী ছিল নুরজাহান গ্রুপ এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড।
মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের বেতনভোগী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে সামনে রেখে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করা হয়। এছাড়া নুরজাহান গ্রুপের একটি বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে শাখায় ব্যাংক হিসাব খোলা থেকে শুরু করে সেই হিসাবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় জাসমীর ভেজিটেবল অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদকে।
কীভাবে আত্মসাৎ হলো এ বিপুল অর্থ
মামলায় জানা যায়, নতুন খোলা বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ অনুমোদন করা হয় এবং ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের ৫১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন, যা সুদে-আসলে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায়।
দুদক বলছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত করপোরেট জালিয়াতি, যেখানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিপুল সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এ মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










