সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ডসহ পাঁচ সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৩২ Time View

 

বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্র প্রাইজবন্ড বিক্রি, ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল, সরকারি ট্রেজারি চালান গ্রহণ এবং চালানের ভাংতি টাকা প্রদানসহ পাঁচ ধরনের সেবা বন্ধ করতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, যা প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে বাস্তবায়ন করা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় কার্যালয়েও কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে মতিঝিল অফিসে সেবা বন্ধ

মতিঝিল কার্যালয়ে বর্তমানে মোট ২৮টি কাউন্টারের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড কেনাবেচা, চালান জমা, ভাংতি টাকা প্রদান ও ছেঁড়া নোট বদলসহ ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এগুলোর মধ্যে ৫টি সেবা দেওয়া ১২টি কাউন্টার ৩০ নভেম্বরের পর বন্ধ হয়ে যাবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকেই মিলবে সব সেবা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেবা বন্ধ করলেও সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর পোস্ট অফিসে আগের মতোই সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড অন্যান্য নগদভিত্তিক সেবা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যাংক যেন নির্বিঘ্নে সেবা দিতে পারে, সেজন্য তদারকি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই জনগণকে সচেতন করতে প্রচারণাও চালানো হবে।

নিরাপত্তা, আধুনিকায়ন স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপনের কারণ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মূল ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপন, আধুনিক নিরাপত্তা অবকাঠামো তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংক্রান্ত কেপিআই নীতিমালা অনুসরণ করতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উচ্চ নিরাপত্তা জোন, তাই সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বর থেকে নগদ সেবা বন্ধ

আগামী ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে—

  • নগদ টাকা দেওয়া-নেওয়া,
  • সঞ্চয়পত্র/প্রাইজবন্ড কেনাবেচা,
  • ট্রেজারি চালান গ্রহণ,
  • ভাংতি টাকা প্রদান,
  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল —
    এসব সেবা আর পাওয়া যাবে না।

কোন কোন সেবা চালু থাকবে

মতিঝিল অফিসে ১৬টি কাউন্টারে যে সেবাগুলো চালু থাকবে—

  • ধাতব মুদ্রা বিনিময়
  • স্মারক মুদ্রা বিক্রি
  • অপ্রচলিত নোটের বিরোধ নিষ্পত্তি
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেন
    তবে ভবিষ্যতে এই সেবাগুলোও ধীরে ধীরে বন্ধ করার নির্দেশনা আছে।

সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির পরিপ্রেক্ষিত

গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সার্ভার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আত্মসাৎ এবং আরও একজনের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা ধরা পড়ে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয় এবং তদন্ত চলছে। সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির ঘটনার পর থেকেই মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, এই জালিয়াতির ঘটনার কারণে সেবা বন্ধ করা হয়নি। এটি মূলত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ, যাতে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা যায়।

গ্রাহকদের ওপর প্রভাব

বাংলাদেশে বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মোট পরিমাণ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা, যার ৩০ শতাংশের বেশি লেনদেন হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে। বিশেষ করে বিশ্বস্ততা, কম ভোগান্তি ও সরকারি তদারকির কারণে গ্রাহকদের বড় অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। এখন তারা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য—
নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানুষের অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং পরিবেশ তৈরি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ডসহ পাঁচ সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

Update Time : ০৭:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্র প্রাইজবন্ড বিক্রি, ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল, সরকারি ট্রেজারি চালান গ্রহণ এবং চালানের ভাংতি টাকা প্রদানসহ পাঁচ ধরনের সেবা বন্ধ করতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, যা প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে বাস্তবায়ন করা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় কার্যালয়েও কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে মতিঝিল অফিসে সেবা বন্ধ

মতিঝিল কার্যালয়ে বর্তমানে মোট ২৮টি কাউন্টারের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড কেনাবেচা, চালান জমা, ভাংতি টাকা প্রদান ও ছেঁড়া নোট বদলসহ ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এগুলোর মধ্যে ৫টি সেবা দেওয়া ১২টি কাউন্টার ৩০ নভেম্বরের পর বন্ধ হয়ে যাবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকেই মিলবে সব সেবা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেবা বন্ধ করলেও সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর পোস্ট অফিসে আগের মতোই সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড অন্যান্য নগদভিত্তিক সেবা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যাংক যেন নির্বিঘ্নে সেবা দিতে পারে, সেজন্য তদারকি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই জনগণকে সচেতন করতে প্রচারণাও চালানো হবে।

নিরাপত্তা, আধুনিকায়ন স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপনের কারণ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মূল ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপন, আধুনিক নিরাপত্তা অবকাঠামো তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংক্রান্ত কেপিআই নীতিমালা অনুসরণ করতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উচ্চ নিরাপত্তা জোন, তাই সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বর থেকে নগদ সেবা বন্ধ

আগামী ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে—

  • নগদ টাকা দেওয়া-নেওয়া,
  • সঞ্চয়পত্র/প্রাইজবন্ড কেনাবেচা,
  • ট্রেজারি চালান গ্রহণ,
  • ভাংতি টাকা প্রদান,
  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল —
    এসব সেবা আর পাওয়া যাবে না।

কোন কোন সেবা চালু থাকবে

মতিঝিল অফিসে ১৬টি কাউন্টারে যে সেবাগুলো চালু থাকবে—

  • ধাতব মুদ্রা বিনিময়
  • স্মারক মুদ্রা বিক্রি
  • অপ্রচলিত নোটের বিরোধ নিষ্পত্তি
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেন
    তবে ভবিষ্যতে এই সেবাগুলোও ধীরে ধীরে বন্ধ করার নির্দেশনা আছে।

সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির পরিপ্রেক্ষিত

গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সার্ভার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আত্মসাৎ এবং আরও একজনের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা ধরা পড়ে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয় এবং তদন্ত চলছে। সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির ঘটনার পর থেকেই মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, এই জালিয়াতির ঘটনার কারণে সেবা বন্ধ করা হয়নি। এটি মূলত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ, যাতে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা যায়।

গ্রাহকদের ওপর প্রভাব

বাংলাদেশে বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মোট পরিমাণ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা, যার ৩০ শতাংশের বেশি লেনদেন হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে। বিশেষ করে বিশ্বস্ততা, কম ভোগান্তি ও সরকারি তদারকির কারণে গ্রাহকদের বড় অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। এখন তারা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য—
নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানুষের অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং পরিবেশ তৈরি।