নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না হলে দুর্নীতি কমানো কঠিন হবে—ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
- Update Time : ০৯:২৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৯৯ Time View

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, জনগণ এখন পরিবর্তন চায়—তারা চায় প্রকৃত জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা যাক এবং নির্বাচনী ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হোক। তাঁর মতে, নির্বাচনী খরচ যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক দুর্নীতি হ্রাস করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজশাহীর পবার বায়া এলাকার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হলরুমে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সভাটি পরিণত হয় মুক্ত আলোচনার এক প্রাণবন্ত মঞ্চে।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন এখন অবধারিত একটি রাজনৈতিক ঘটনা। সবাইই আশা করছেন, এবার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং তা হবে প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং সামনের দিনের উন্নয়নধারা ও শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতা বলতেন, জনগণ শুনত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে—জনগণ তাদের মতামত, দাবি ও প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। তারা শুধু ভোট দিতে চায় না, বরং তারা চায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া হোক স্বচ্ছ, ব্যয় নিয়ন্ত্রিত এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।
সভায় উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব যত বেশি, ততই প্রকৃত নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ কমে যায়। অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ রাজনীতিকে দূষিত করে এবং নির্বাচিত ব্যক্তির ওপর পরে নানা স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রাক-নির্বাচনী উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই আঞ্চলিক আলোচনা সভায় আগামী দিনের সরকার গঠনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে নানা দাবি ও প্রত্যাশা উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং সেই ভিত্তি শক্তিশালী না হলে উন্নয়নও টেকসই হবে না।
সামগ্রিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—শুধু নির্বাচন নয়, দেশের শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন কাঠামোকে শুদ্ধ করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।










