সম্মিলিত ছাত্র সংসদের কড়া বার্তা: “আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শেকড় ঝেড়ে ফেলুন
- Update Time : ০৯:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৫ Time View

সম্মিলিত ছাত্র সংসদের কড়া বার্তা: “আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শেকড় ঝেড়ে ফেলুন — দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখতে হবে”
সম্মিলিত ছাত্র সংসদ — ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসু — মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে; সেজন্য সরকারের কাছে তারা শেকড় থেকে এসব সংগঠন উৎখাত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিটি ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনী ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।
বিবৃতিতে তাদের মূল দাবি ও আলোকপাতগুলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলে দেখা যায়—
প্রথমত, তারা মনে করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আগস্ট–জুলাই আন্দোলনের রক্তসিক্ত সংগ্রামের ফলস্বরূপ গঠিত বর্তমান অবস্থা ঝুঁকিতে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শতবর্ষী স্বাধিকার অর্জিত হলেও বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ নিষ্পত্তি না হলে জাতির অর্জন বিপন্ন হবে।”
দ্বিতীয়ত, চার ছাত্র সংগঠন অভিযোগ করেছে—আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো গুম-খুন, গণহত্যা, দমন suppression ও প্রশাসনকে দলীয়ীকরণ করে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও অকার্যকর করেছে। তারা বলেছে, এসব কারণে দেশের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা হুমকির মুখে পড়েছে।
তৃতীয়ত, বিবৃতিতে এসেছে — সাম্প্রতিক সময়ের নাশকতা, চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার মতো ঘটনা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে; তবু সরকারের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সন্তোষজনক নয়। তাই সমন্বিত ও জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চতুর্থত, তারা দাবি করেছে—জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশকে স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব অপরিহার্য; সেই উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের উৎখাত করতে হবে এবং যারা জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
বিবৃতির ভাষ্য অনুযায়ী সম্মিলিত ছাত্র সংসদ রাজনৈতিক দলের ব্যপারকে তীব্র ভিন্নমত ছাড়াও বলছে—দেশপ্রেমিক নাগরিক, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকসহ সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে; এবং যে কোনো প্রান্তে নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সমাজকে অনুরোধ করা হয়েছে।
দাবির প্রেক্ষাপট ও রাস্তা—সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
- দাবির ন্যারেটিভ: ছাত্রসাংগঠনিক এই যৌথ বিবৃতি মূলত শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ও দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে। বিবৃতির রূপরেখা রাজনৈতিক—এখানে ‘জুলাই বিপ্লব’, ‘গণহত্যা’, ‘ফ্যাসিস্ট কাঠামো’—এই তর্কগত শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে যাতে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্বরবোজ করা হয়।
- কার্যকর পদ্ধতি প্রয়োজন: যদি সরকারকে সত্যিই এসব অভিযোগ মোকাবিলা করতে হয়, তা হলে প্রয়োজন কঠোর গোয়েন্দা তৎপরতা, স্বচ্ছ প্রমাণভিত্তিক তদন্ত, দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ আদালতপ্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক-আইনি সংস্কার—যাতে অভিযোগের সমস্ত স্তর গ্রহণযোগ্য ও বিচারযোগ্য হয়।
- দায়িত্বশীলতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ: বিবৃতিতে জনসাধারণকে সরাসরি সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান এসেছে—তবে নজর রাখতে হবে যাতে নাগরিক প্রতিরোধ আইনগত সীমার মধ্যে থেকে এবং শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া সুনিশ্চিত হয়; অন্যথায় বিশৃঙ্খলা বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
- ঝুঁকি ও ফলাফল: কঠোর পদক্ষেপ নিলে দ্রুত অস্থিরতা রোধ হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এমন চাপ বেড়ে গেলে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো আরও চক্রান্তমূলক কৌশল নিতে পারে। তাই গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপ ও সামাজিক মাধ্যম মনিটরিং গ্রহণযোগ্য ও অপরিহার্য।
সংক্ষেপে: সম্মিলিত ছাত্র সংসদের বিবৃতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কেত—তারা সরকারকে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ত্বরান্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং নাগরিকদেরও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার পক্ষে ধাক্কা দিচ্ছে। এই ধরনের দাবির বাস্তবায়ন হলে তা আইনি ও প্রমাণভিত্তিকভাবে করতে হবে, যাতে দেশের স্থিতিশীলতা ও মৌলিক মানবাধিকার উভয়ই রক্ষিত থাকে।










