সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ॥ সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৬ Time View

নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৩ নভেম্বর ঘিরে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ঢাকা শহর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো

রাজধানী ঢাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত। এর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ধারাবাহিক ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে অজানা আশঙ্কা।

একের পর এক হামলা ও নাশকতামূলক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা শহর এখন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো। রাস্তায় রাস্তায় তল্লাশি চলছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি।

কঠোর অবস্থানে সরকার

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “১৩ নভেম্বর ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে, কেপিআই এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি জানান, শহরের কোথাও খোলা তেল বিক্রিও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যাতে অগ্নিসংযোগের সুযোগ কেউ না পায়। পাশাপাশি জনগণকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান। আমরা আটটি জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছি।”

ঢাকায় কঠোর নজরদারি তল্লাশি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাজধানীর প্রধান সড়ক, কৌশলগত মোড়, রাজনৈতিক কার্যালয় ও কেপিআই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবকে চেকপোস্টে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। যাত্রীদের ব্যাগ, মোটরসাইকেল ও সিএনজির বুট ঘেঁটে দেখা হচ্ছে, পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রবেশপথ—যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, বিমানবন্দর, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ও রামপুরা—এসব জায়গায় বিশেষ তল্লাশি চলছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, “এলাকাটি ঢাকায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। তাই নির্দেশ অনুযায়ী আমরা একাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছি। তবে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।”

পরপর বিস্ফোরণ আগুনে আতঙ্ক

গত কয়েকদিনে রাজধানীর শাহজাদপুর, মেরুল বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, রায়েরবাগ, ডেমরা ও ধানমন্ডিতে পরপর ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শাহবাগ, হাতিরঝিল ও কাকরাইল এলাকায় হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণতিনটি বাসে আগুনের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

একজন বাসচালক বলেন, “২০১৫ সালের পেট্রোলবোমা হামলার কথা এখনো মনে আছে। এখন আবারও সেই আতঙ্ক ফিরে আসছে।”
কল্যাণপুরের এক বাসিন্দা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে তো বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।”

ডিএমপির তথ্য: দুই সপ্তাহে ১৭টি বিস্ফোরণ, ৯টি অগ্নিসংযোগ

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, “১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৫টি ভিন্ন স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে ও ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপনে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। “অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমরা ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, যাদের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরে থেকে অর্থের বিনিময়ে এসে অংশ নিচ্ছে।”

প্রযুক্তি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে

ডিএমপির কমিশনার জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—হেলমেট ও মাস্ক পরা ব্যক্তিরা দ্রুত এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি নাগরিকদের অনুরোধ করেন—“অপরিচিত কাউকে বাসা বা মেসে আশ্রয় দেবেন না, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বোর্ডার তুলুন। নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন।”

র‌্যাবের কৌশলগত প্রস্তুতি

র‌্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে আছি। ১৫টি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ৭০টি টহল টিম ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “কোন সময়, কোন এলাকায় হামলার ঝুঁকি বেশি, সেটি আমরা বিশ্লেষণ করে বিশেষ সময়ে মোতায়েন বাড়িয়েছি। সাইবার ইউনিটও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে।”

জনসচেতনতা নাগরিক সহযোগিতা কামনা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনার উভয়েই রাজধানীবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, নাগরিক সহযোগিতা ছাড়া সন্ত্রাস প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
“জনগণই দেশের নিরাপত্তার প্রথম প্রহরী। তাই কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে দ্রুত ৯৯৯-এ জানাতে অনুরোধ করছি,” বলেন উপদেষ্টা।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে বড় রাজনৈতিক রায়ের তারিখকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন নয়। অতীতে ২০১৩–১৫ সালের সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনও একই রকম ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছিল। এবারও পরিস্থিতি একই পথে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন ঘুরছে রাজধানীবাসীর মনে। তবে এবার সরকারের প্রতিক্রিয়া অনেক দ্রুত ও কঠোর। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ তৎপরতা দেখায় যে, সরকার কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করতে রাজি নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ককটেল হামলা বা বাসে অগ্নিসংযোগ মূলত ভয়-সন্ত্রাস সৃষ্টির কৌশল, যা জনমনে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং এখন এই ধরনের কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ॥ সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Update Time : ০৮:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৩ নভেম্বর ঘিরে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ঢাকা শহর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো

রাজধানী ঢাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত। এর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ধারাবাহিক ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে অজানা আশঙ্কা।

একের পর এক হামলা ও নাশকতামূলক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা শহর এখন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো। রাস্তায় রাস্তায় তল্লাশি চলছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি।

কঠোর অবস্থানে সরকার

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “১৩ নভেম্বর ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে, কেপিআই এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি জানান, শহরের কোথাও খোলা তেল বিক্রিও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যাতে অগ্নিসংযোগের সুযোগ কেউ না পায়। পাশাপাশি জনগণকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান। আমরা আটটি জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছি।”

ঢাকায় কঠোর নজরদারি তল্লাশি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাজধানীর প্রধান সড়ক, কৌশলগত মোড়, রাজনৈতিক কার্যালয় ও কেপিআই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবকে চেকপোস্টে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। যাত্রীদের ব্যাগ, মোটরসাইকেল ও সিএনজির বুট ঘেঁটে দেখা হচ্ছে, পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রবেশপথ—যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, বিমানবন্দর, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ও রামপুরা—এসব জায়গায় বিশেষ তল্লাশি চলছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, “এলাকাটি ঢাকায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। তাই নির্দেশ অনুযায়ী আমরা একাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছি। তবে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।”

পরপর বিস্ফোরণ আগুনে আতঙ্ক

গত কয়েকদিনে রাজধানীর শাহজাদপুর, মেরুল বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, রায়েরবাগ, ডেমরা ও ধানমন্ডিতে পরপর ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শাহবাগ, হাতিরঝিল ও কাকরাইল এলাকায় হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণতিনটি বাসে আগুনের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

একজন বাসচালক বলেন, “২০১৫ সালের পেট্রোলবোমা হামলার কথা এখনো মনে আছে। এখন আবারও সেই আতঙ্ক ফিরে আসছে।”
কল্যাণপুরের এক বাসিন্দা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে তো বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।”

ডিএমপির তথ্য: দুই সপ্তাহে ১৭টি বিস্ফোরণ, ৯টি অগ্নিসংযোগ

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, “১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৫টি ভিন্ন স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে ও ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপনে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। “অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমরা ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, যাদের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরে থেকে অর্থের বিনিময়ে এসে অংশ নিচ্ছে।”

প্রযুক্তি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে

ডিএমপির কমিশনার জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—হেলমেট ও মাস্ক পরা ব্যক্তিরা দ্রুত এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি নাগরিকদের অনুরোধ করেন—“অপরিচিত কাউকে বাসা বা মেসে আশ্রয় দেবেন না, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বোর্ডার তুলুন। নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন।”

র‌্যাবের কৌশলগত প্রস্তুতি

র‌্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে আছি। ১৫টি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ৭০টি টহল টিম ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “কোন সময়, কোন এলাকায় হামলার ঝুঁকি বেশি, সেটি আমরা বিশ্লেষণ করে বিশেষ সময়ে মোতায়েন বাড়িয়েছি। সাইবার ইউনিটও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে।”

জনসচেতনতা নাগরিক সহযোগিতা কামনা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনার উভয়েই রাজধানীবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, নাগরিক সহযোগিতা ছাড়া সন্ত্রাস প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
“জনগণই দেশের নিরাপত্তার প্রথম প্রহরী। তাই কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে দ্রুত ৯৯৯-এ জানাতে অনুরোধ করছি,” বলেন উপদেষ্টা।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে বড় রাজনৈতিক রায়ের তারিখকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন নয়। অতীতে ২০১৩–১৫ সালের সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনও একই রকম ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছিল। এবারও পরিস্থিতি একই পথে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন ঘুরছে রাজধানীবাসীর মনে। তবে এবার সরকারের প্রতিক্রিয়া অনেক দ্রুত ও কঠোর। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ তৎপরতা দেখায় যে, সরকার কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করতে রাজি নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ককটেল হামলা বা বাসে অগ্নিসংযোগ মূলত ভয়-সন্ত্রাস সৃষ্টির কৌশল, যা জনমনে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং এখন এই ধরনের কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।