সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুয়া ও অনলাইন গ্রুপে বিনিয়োগে টাকা হারিয়ে আত্মগোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক, অবশেষে উদ্ধার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৪ Time View

দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মাদারীপুরের একটি হোটেল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নাঈম রহমানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে মাদারীপুর জেলা সদরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন গণমাধ্যমকে জানান, নাঈম রহমান ইচ্ছাকৃতভাবেই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তি ও উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নিয়ে অনলাইন জুয়া, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের তথাকথিত বিনিয়োগ গ্রুপে অর্থ লগ্নি করেছিলেন। এসব গ্রুপে দ্রুত লাভের প্রলোভনে পড়ে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা হারান। বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ওসি আরও বলেন, “আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মাদারীপুরের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন, তবে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। বর্তমানে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

নাঈম রহমানের মা জানান, “ছেলেকে ফিরে পেয়েছি—এটাই বড় স্বস্তি। এখন ওর মানসিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আমরা আপাতত কিছু জিজ্ঞেস করিনি। ওকে নিয়ে আমরা বাসায় যাচ্ছি।”

এর আগে গত রোববার (৯ নভেম্বর) অফিস শেষে নাঈম রহমান নিজের ব্যাগ ও পরিচয়পত্র অফিসে রেখে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকর্মীরা জানান, নাঈম রহমান কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কিছু অনলাইন গ্রুপে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা যায়। তারা মনে করছেন, এই বিনিয়োগে ব্যর্থতাই তাকে মানসিক চাপে ফেলে দেয়।

পুলিশ বলছে, বর্তমানে নাঈম রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—বিশেষ করে তিনি কোন কোন অনলাইন গ্রুপে বিনিয়োগ করেছিলেন, কীভাবে টাকা লেনদেন করেছিলেন এবং এসব গ্রুপের পেছনে কারা জড়িত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এটি দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে অনলাইন প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ার এক নতুন উদাহরণ। সহজে ও দ্রুত মুনাফার আশায় অনেকেই এই ধরনের অ্যাপ ও গ্রুপে বিনিয়োগ করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুয়া ও অনলাইন গ্রুপে বিনিয়োগে টাকা হারিয়ে আত্মগোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক, অবশেষে উদ্ধার

Update Time : ০৫:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মাদারীপুরের একটি হোটেল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নাঈম রহমানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে মাদারীপুর জেলা সদরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন গণমাধ্যমকে জানান, নাঈম রহমান ইচ্ছাকৃতভাবেই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তি ও উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নিয়ে অনলাইন জুয়া, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের তথাকথিত বিনিয়োগ গ্রুপে অর্থ লগ্নি করেছিলেন। এসব গ্রুপে দ্রুত লাভের প্রলোভনে পড়ে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা হারান। বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ওসি আরও বলেন, “আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মাদারীপুরের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন, তবে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। বর্তমানে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

নাঈম রহমানের মা জানান, “ছেলেকে ফিরে পেয়েছি—এটাই বড় স্বস্তি। এখন ওর মানসিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আমরা আপাতত কিছু জিজ্ঞেস করিনি। ওকে নিয়ে আমরা বাসায় যাচ্ছি।”

এর আগে গত রোববার (৯ নভেম্বর) অফিস শেষে নাঈম রহমান নিজের ব্যাগ ও পরিচয়পত্র অফিসে রেখে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকর্মীরা জানান, নাঈম রহমান কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কিছু অনলাইন গ্রুপে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা যায়। তারা মনে করছেন, এই বিনিয়োগে ব্যর্থতাই তাকে মানসিক চাপে ফেলে দেয়।

পুলিশ বলছে, বর্তমানে নাঈম রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—বিশেষ করে তিনি কোন কোন অনলাইন গ্রুপে বিনিয়োগ করেছিলেন, কীভাবে টাকা লেনদেন করেছিলেন এবং এসব গ্রুপের পেছনে কারা জড়িত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এটি দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে অনলাইন প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ার এক নতুন উদাহরণ। সহজে ও দ্রুত মুনাফার আশায় অনেকেই এই ধরনের অ্যাপ ও গ্রুপে বিনিয়োগ করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।