আগামী মাস থেকে টাকা পরিশোধ করবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
- Update Time : ০৮:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১০৪ Time View

আগামী মাস থেকে টাকা পরিশোধ করবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: গ্রাহকদের ধৈর্য ও সহযোগিতা চাওয়া হলো
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বদিউজ্জামান দিদার আশ্বাস দিলেন — আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং নিয়মিত ন্যূনতম পাওনা পরিশোধ করা হবে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্দেশে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আগামী মাস থেকেই পর্যায়ক্রমিকভাবে টাকা পরিশোধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংক পরিচালনা। মঙ্গলবার বিকালে মহাখালী করপোরেট শাখায় আমানতকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং ওই ব্যাংকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. বদিউজ্জামান দিদার উপস্থিত থেকে এই আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শাখা ব্যবস্থাপকসহ গ্রাহক প্রতিনিধিরা।
মতবিনিময় সভায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় আকারের অনেক গ্রাহক তাদের আর্থিক কষ্টের কাহিনী তুলে ধরেন। কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে জমা রেখে প্রয়োজনের সময় তুলতে না পারায় বিকল্প ব্যবস্থা সূত্রে অনেকেরই ব্যবসা, পরিবার ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে—এই মত প্রকাশ করেন উপস্থিতরা। মহাখালী শাখার একজন বড় গ্রাহক আব্দুল আউয়াল বলেন, তিনি একটি এলসি খোলার প্রয়াসে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এমন ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা শুনে প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা গভীর সহমর্মিতা জানান।
এসময় মো. বদিউজ্জামান দিদার গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমানতকারীদের টাকা যে কোনো মূল্যে সুরক্ষিত রাখা হবে—এটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য। জনবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা আগামী মাস থেকে নিয়মিতভাবে ন্যূনতম পরিমাণে পাওনা পরিশোধ শুরু করব। জানুয়ারিতে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ধাপে ধাপে দ্রুত উন্নতি ঘটানো হবে।” তিনি আরও অনুরোধ করেন, গ্রাহকরা ধৈর্য ধারণ করবেন এবং অযথা ভয়ে একসঙ্গে সমস্ত টাকা তুলে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।
প্রশাসক বদিউজ্জামান বলেন, ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ে নিজেকে স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে—এক্ষেত্রে গ্রাহকদের সহযোগিতা জরুরি। তিনি আশ্বাস দেন, “গচ্ছিত টাকা নিয়ে কোনো ভয় নেই; আমরা তাদের টাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত গ্রাহকরা তাদের দুর্দশা, পারিবারিক সংকট এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে দ্রুত সমাধান চেয়েছেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের ক্ষোভ ও হতাশা মেনে নিয়ে তাদের পুনরায় আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সময়সূচি ও পর্যায়ক্রমিক পেমেন্ট প্ল্যান কার্যকর করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বড় খাতে যারা এলসি-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছেন, তাদের সমাধানে প্রযোজ্য নিয়ম এবং সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—পেমেন্ট শুরু হলে তা কিভাবে, কারা পাবে এবং কোন ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে তা গ্রাহকদের কাছে পর্যায়ক্রমে জানানো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিও উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে তারা সভায় জানান।
চূড়ান্তভাবে প্রশাসক দিদার সভা শেষে বলেন, “ব্যাংকটি যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা অস্বীকার করার নয়; তবুও আমরা দ্রুত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রথম ধাপে সীমিত পরিমাণে হলেও আমরা অর্থদান শুরু করব; এরপর ধাপে ধাপে অবস্থার উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেমেন্ট বাড়ানো হবে।”
গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া: অনেকেই এই ঘোষণায় কিছুটা সান্ত্বনা পেয়েছেন, আবার অনেকে বলছেন, তাদের দুর্দশার পূর্ণ প্রতিকার না পেলে সাধারণ আস্থা ফিরবে না। তবে সাধারণভাবেই বেশিরভাগ গ্রাহক ধীরে হলেও কিছু টাকা পেলে তাতে আগামী দিনের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবেন—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।










