সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন থেকে আয়কর কাটায় নতুন নির্দেশনা জারি করল সরকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৬৮ Time View

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে আয়কর কর্তনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (১০ নভেম্বর) হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (CGA) কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে দেশের সব সরকারি কর্মচারীর বেতন থেকে প্রযোজ্য আয়কর বাধ্যতামূলকভাবে উৎসে কেটে রাখতে হবে

বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে সিজিএ’অতিরিক্ত হিসাব পদ্ধতি শাখা, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে— আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, চলতি আয় বছরে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক বেতন করমুক্ত সীমার উপরে, তাদের বেতন থেকে আয়কর কেটে রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

করমুক্ত সীমা কর কর্তনের নির্দেশনা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—

  • পুরুষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মাসিক মূল বেতন যদি ২৬,৭৮৫ টাকা বা তার বেশি হয়,
  • নারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মাসিক মূল বেতন যদি ৩০,৩৫৭ টাকা বা তার বেশি হয়,

তাহলে তাদের আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করছে। তাই বেতন বিল প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবশ্যই উৎসে আয়কর কেটে রাখতে হবে।

দপ্তরভিত্তিক কর কর্তনের দায়িত্ব

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুতের সময় ট্রেজারি রুলস (SR-125) অনুযায়ী বেতন উত্তোলনকারী কর্মকর্তার ওপরই কর কর্তনের দায়িত্ব বর্তাবে। অর্থাৎ, যে কর্মকর্তা বা অফিস বেতন বিল প্রস্তুত করবেন, তিনিই নিশ্চিত করবেন যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর আয়কর যথাযথভাবে কাটা হয়েছে এবং তা সরকারি খাতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসার, বিভাগীয় জেলা হিসাব নিয়ন্ত্রক, উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা, এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নজরদারিতে বাস্তবায়ন

নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে অর্থ বিভাগের সচিবের মাধ্যমে, যেখানে বাজেট-অনুচ্ছেদে কর্মরত যুগ্ম সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে দেশের সকল সরকারি দপ্তরে কর কর্তনের প্রক্রিয়া একীভূত, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হয়।

নির্দেশনার উৎস প্রেক্ষাপট

এই নতুন নির্দেশনার পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (IRD)জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে গত অক্টোবর জারি করা একটি আধা-সরকারি চিঠি। সেই চিঠিতে সরকারি বেতনভোগীদের বেতন থেকে উৎসে আয়কর কর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা এবার সিজিএ কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

কেন নতুন নির্দেশনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু সরকারি দপ্তরে এখনো পর্যন্ত কর কর্তনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও বিলম্ব লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর কর্তন না হওয়ায় পরে বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের সময় জটিলতায় পড়েন। নতুন নির্দেশনার ফলে এসব অসামঞ্জস্য দূর হবে, এবং সরকারি বেতনভোগীদের কর প্রদানের প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষায়, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আহরণে শৃঙ্খলা আনতে চায়। এটি কেবল কর আদায় বাড়াবে না, বরং সরকারি কর্মচারীদের করজবাবদিহিতাও নিশ্চিত করবে।”

সারসংক্ষেপ

সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে—

  • করযোগ্য আয়ের অধিকারী সকল সরকারি কর্মচারীর বেতন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কাটা হবে;
  • সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান ও হিসাব কর্মকর্তা এ কর কর্তনের জন্য দায়ী থাকবেন;
  • কর কর্তন না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে;
  • নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহে দক্ষতা বাড়বে এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন থেকে আয়কর কাটায় নতুন নির্দেশনা জারি করল সরকার

Update Time : ০৯:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে আয়কর কর্তনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (১০ নভেম্বর) হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (CGA) কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে দেশের সব সরকারি কর্মচারীর বেতন থেকে প্রযোজ্য আয়কর বাধ্যতামূলকভাবে উৎসে কেটে রাখতে হবে

বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে সিজিএ’অতিরিক্ত হিসাব পদ্ধতি শাখা, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে— আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, চলতি আয় বছরে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক বেতন করমুক্ত সীমার উপরে, তাদের বেতন থেকে আয়কর কেটে রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

করমুক্ত সীমা কর কর্তনের নির্দেশনা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—

  • পুরুষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মাসিক মূল বেতন যদি ২৬,৭৮৫ টাকা বা তার বেশি হয়,
  • নারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মাসিক মূল বেতন যদি ৩০,৩৫৭ টাকা বা তার বেশি হয়,

তাহলে তাদের আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করছে। তাই বেতন বিল প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবশ্যই উৎসে আয়কর কেটে রাখতে হবে।

দপ্তরভিত্তিক কর কর্তনের দায়িত্ব

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুতের সময় ট্রেজারি রুলস (SR-125) অনুযায়ী বেতন উত্তোলনকারী কর্মকর্তার ওপরই কর কর্তনের দায়িত্ব বর্তাবে। অর্থাৎ, যে কর্মকর্তা বা অফিস বেতন বিল প্রস্তুত করবেন, তিনিই নিশ্চিত করবেন যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর আয়কর যথাযথভাবে কাটা হয়েছে এবং তা সরকারি খাতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসার, বিভাগীয় জেলা হিসাব নিয়ন্ত্রক, উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা, এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নজরদারিতে বাস্তবায়ন

নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে অর্থ বিভাগের সচিবের মাধ্যমে, যেখানে বাজেট-অনুচ্ছেদে কর্মরত যুগ্ম সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে দেশের সকল সরকারি দপ্তরে কর কর্তনের প্রক্রিয়া একীভূত, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হয়।

নির্দেশনার উৎস প্রেক্ষাপট

এই নতুন নির্দেশনার পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (IRD)জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে গত অক্টোবর জারি করা একটি আধা-সরকারি চিঠি। সেই চিঠিতে সরকারি বেতনভোগীদের বেতন থেকে উৎসে আয়কর কর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা এবার সিজিএ কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

কেন নতুন নির্দেশনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু সরকারি দপ্তরে এখনো পর্যন্ত কর কর্তনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও বিলম্ব লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর কর্তন না হওয়ায় পরে বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের সময় জটিলতায় পড়েন। নতুন নির্দেশনার ফলে এসব অসামঞ্জস্য দূর হবে, এবং সরকারি বেতনভোগীদের কর প্রদানের প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষায়, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আহরণে শৃঙ্খলা আনতে চায়। এটি কেবল কর আদায় বাড়াবে না, বরং সরকারি কর্মচারীদের করজবাবদিহিতাও নিশ্চিত করবে।”

সারসংক্ষেপ

সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে—

  • করযোগ্য আয়ের অধিকারী সকল সরকারি কর্মচারীর বেতন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কাটা হবে;
  • সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান ও হিসাব কর্মকর্তা এ কর কর্তনের জন্য দায়ী থাকবেন;
  • কর কর্তন না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে;
  • নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহে দক্ষতা বাড়বে এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।