বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন উদ্দীপনা: সেবা ও মান উন্নয়নের অঙ্গীকার
- Update Time : ০১:০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৫০ Time View

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এখান থেকে শুধু শিক্ষার্থী নয়, বরং হাজার হাজার আলেম ইসলামের খেদমতের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হন এবং দেশের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।
গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ছিল উপেক্ষিত ও অবহেলিত। ফ্যাসিস্ট ও ক্ষমতাসীন হাসিনা সরকারের সময় এই বোর্ডকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে জুলাই বিপ্লবের পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রমে নতুন প্রাণ, নতুন উদ্যম, এবং সেবার মানোন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মোহাম্মদ নুরুল হক এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর সালেহ আহমদ। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় বোর্ডের কার্যক্রম এখন নতুন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
নতুন সেবার মুখ ফুটেছে বোর্ডে
নতুন প্রতিদিনের প্রতিনিধি বোর্ড পরিদর্শনকালে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (কমন) মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, তারা বোর্ডকে একটি নতুন রূপ দিতে চান— এমন একটি বোর্ড, যেখানে জনগণ বিশ্বাস করবে যে মাদ্রাসা শিক্ষাও মানসম্মত এবং আধুনিক শিক্ষার সমান গুরুত্ববাহী।
তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান স্যার প্রতিদিন নানা সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ করছেন। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জনগণকে এমন সেবা দেওয়ার, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় অনুপস্থিত ছিল।” পরিদর্শনের সময় চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রার বোর্ডের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন।
পরীক্ষা ও সনদ সেবায় পরিবর্তন

নতুন প্রতিদিন প্রতিনিধি বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশন (কনফিডেনশিয়াল) ড. মোঃ মহাতাব হোসেন-এর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বোর্ড এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ট্রান্সক্রিপ্ট সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করছে।
তার ভাষায়, “আমরা যেকোনো সংশোধন অতি স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। জনগণ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য কাউন্টার সেবা পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কাউন্টার কর্মীদের অনিয়ম বা অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই বোর্ডের প্রতিটি সেবা জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠুক।
ছাত্রদের অভিজ্ঞতা ও জরুরি পরিবর্তনের দাবি
নতুন প্রতিদিন প্রতিনিধি দল রাজধানীসহ দেশের ১০টি মাদ্রাসা পরিদর্শন করে দাখিল থেকে আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে। শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্তমানে বোর্ড কর্তৃক সরবরাহকৃত সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং ট্রান্সক্রিপ্ট কপির কাগজ ও প্রিন্টের কালির মান অত্যন্ত নিম্নমানের।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের সার্টিফিকেট আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কাগজের মান অনেক খারাপ। অন্য বোর্ডগুলোর মতো ভালো মানের কাগজে এগুলো ছাপানো দরকার।”
তারা দাবি করেন, অবিলম্বে কাগজের মান উন্নত করে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের সমমানের মান নিশ্চিত করা হোক।
মাদ্রাসা পরিচালকদের প্রতি নির্দেশনা
বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশের সব মাদ্রাসাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, রেজিস্ট্রেশন কার্ড তৈরির সময় তথ্য যাচাই ও এন্ট্রির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বানান বা তথ্যগত ভুল না হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সময়মতো সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ কাগজপত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এখন নতুন উদ্যম, নতুন লক্ষ্য এবং জনগণের সেবায় এক অনন্য অঙ্গীকার। চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মোহাম্মদ নুরুল হক ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর সালেহ আহমদের নেতৃত্বে বোর্ডের প্রশাসনিক সংস্কার, প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনছে।
জনগণ আশা করছে, এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড একদিন দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাবোর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।












মানসম্মত লেখা,এগিয়ে যান।