সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্টনে জামায়াতসহ আট দলের মহাসমাবেশ আজ: দাবি আদায় না হলে সারাদেশে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮০ Time View

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট আয়োজন ও প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বৃহৎ গণসমাবেশ করতে যাচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আয়োজকরা। পল্টন মোড়ে বেলা ১১টা থেকে শুরু হবে এই গণসমাবেশ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধানসহ আট দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে মূলত জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নির্ণয়, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা, রাজনৈতিক মামলার প্রত্যাহার রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ, এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

আট দলের বৈঠকে চূড়ান্ত কৌশল

সমাবেশের আগের দিন সোমবার রাতে পল্টনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের নীতিনির্ধারকদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব শেষ হয়ে এখন পঞ্চম পর্ব চলছে। ৬ নভেম্বর আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। ১১ নভেম্বরের এই গণসমাবেশ সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এটি কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, এটি জনগণের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম। বিএনপি আমাদের ডাকে সাড়া না দিলেও আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। যদি তারা ডাক দেয়, আমরা অবশ্যই আলোচনায় বসব। আমরা চাই, আলোচনা ও আন্দোলন—দুই পথেই সমাধান আসুক।”

জনদুর্ভোগ নয়, জাতীয় দাবি’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা সবসময় চেষ্টা করি জনদুর্ভোগ কমাতে। আজকের সমাবেশ দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলবে, যাতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়। আমাদের উদ্দেশ্য কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা ভেস্তে যায়নি। বরং একটি চার্টার তৈরি ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। আসল সংকট হলো জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে। গণভোট সংবিধান থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার বাদ দিয়েছে। যারা এখন বলে সংবিধানে গণভোট নেই, তারা আসলে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করছে।”

সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা

জামায়াত নেতা বলেন, “আজকের সমাবেশ থেকে দেশবাসী নতুন একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পাবে, সরকারও স্পষ্ট বার্তা পাবে। আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ নিতে পারে, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে। কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করছে, যা সংঘাত বাড়াতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা সংঘর্ষ চাই না, কিন্তু দাবি আদায় না হলে রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

বিএনপিকে আলোচনার আহ্বান

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপি বলেছে, তারা জামায়াতের ডাকে সাড়া দেবে না। আমরা সেটি জেনে প্রকাশ্যে বলছি—তারা ডাক দিলে আমরাও সাড়া দেব। কারণ, এই সংকট সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া বিকল্প নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের এই সমাবেশ সরকারবিরোধী ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের নতুন প্রকাশ ঘটাবে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই গণসমাবেশ দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পল্টনে জামায়াতসহ আট দলের মহাসমাবেশ আজ: দাবি আদায় না হলে সারাদেশে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

Update Time : ০৭:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট আয়োজন ও প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বৃহৎ গণসমাবেশ করতে যাচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আয়োজকরা। পল্টন মোড়ে বেলা ১১টা থেকে শুরু হবে এই গণসমাবেশ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধানসহ আট দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে মূলত জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নির্ণয়, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা, রাজনৈতিক মামলার প্রত্যাহার রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ, এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

আট দলের বৈঠকে চূড়ান্ত কৌশল

সমাবেশের আগের দিন সোমবার রাতে পল্টনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের নীতিনির্ধারকদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব শেষ হয়ে এখন পঞ্চম পর্ব চলছে। ৬ নভেম্বর আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। ১১ নভেম্বরের এই গণসমাবেশ সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এটি কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, এটি জনগণের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম। বিএনপি আমাদের ডাকে সাড়া না দিলেও আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। যদি তারা ডাক দেয়, আমরা অবশ্যই আলোচনায় বসব। আমরা চাই, আলোচনা ও আন্দোলন—দুই পথেই সমাধান আসুক।”

জনদুর্ভোগ নয়, জাতীয় দাবি’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা সবসময় চেষ্টা করি জনদুর্ভোগ কমাতে। আজকের সমাবেশ দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলবে, যাতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়। আমাদের উদ্দেশ্য কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা ভেস্তে যায়নি। বরং একটি চার্টার তৈরি ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। আসল সংকট হলো জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে। গণভোট সংবিধান থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার বাদ দিয়েছে। যারা এখন বলে সংবিধানে গণভোট নেই, তারা আসলে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করছে।”

সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা

জামায়াত নেতা বলেন, “আজকের সমাবেশ থেকে দেশবাসী নতুন একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পাবে, সরকারও স্পষ্ট বার্তা পাবে। আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ নিতে পারে, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে। কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করছে, যা সংঘাত বাড়াতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা সংঘর্ষ চাই না, কিন্তু দাবি আদায় না হলে রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

বিএনপিকে আলোচনার আহ্বান

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপি বলেছে, তারা জামায়াতের ডাকে সাড়া দেবে না। আমরা সেটি জেনে প্রকাশ্যে বলছি—তারা ডাক দিলে আমরাও সাড়া দেব। কারণ, এই সংকট সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া বিকল্প নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের এই সমাবেশ সরকারবিরোধী ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের নতুন প্রকাশ ঘটাবে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই গণসমাবেশ দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।