দিল্লি আত্মঘাতী বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি প্রকাশ
- Update Time : ১১:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬৫ Time View

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ডা. উমর মোহাম্মদ, যিনি কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এবং আল ফালাহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে তার প্রথম ছবিটি প্রকাশিত হয়, যা গোটা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি সাদা রঙের একটি হুন্দাই আই২০ গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও ২০ জন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের সময় গাড়িটি তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পার্ক করে রাখা ছিল, যা তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জন্ম নেওয়া উমর মোহাম্মদ চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ডা. আদিল আহমেদ রাঠের এবং ডা. মুজাম্মিল শাকিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন—যাদের দুজনকেই সোমবার সকালে জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সহযোগীদের গ্রেপ্তারের খবর জানার পর উমর আতঙ্কিত হয়ে ফরিদাবাদ থেকে দিল্লির দিকে পালিয়ে যান। আত্মগোপনের চেষ্টা করেই তিনি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি লালকেল্লার কাছে নিয়ে আসেন। গোয়েন্দাদের ধারণা, তিনি আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং গাড়ির ভেতরে নিজ হাতে একটি ডেটোনেটর স্থাপন করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে হুন্দাই গাড়িটি লালকেল্লার পার্কিং এলাকায় প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যা আশপাশের ভবনগুলো কাঁপিয়ে দেয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি একাধিকবার হাতবদল হয়ে শেষ পর্যন্ত ডা. উমরের কাছে পৌঁছেছিল, যাতে ট্র্যাক করা কঠিন হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট আগে এক মুখোশধারী ব্যক্তি গাড়িটি চালিয়ে আসছেন এবং কিছুক্ষণ পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পুলিশের ধারণা, তিনি হয়তো কারও নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন বা নির্দিষ্ট সংকেতের পর ডেটোনেটর সক্রিয় করেন।
বিস্ফোরণের পরপরই লালকেল্লার আশপাশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে, রাস্তায় দেহাবশেষ ও গাড়ির ভাঙা অংশ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত জনতা চারদিকে ছুটতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আহতদের লোকনায়ক হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ ও ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানভিত্তিক একটি চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গেছে, যদিও তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।
এদিকে, এই ঘটনার পর দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধান সরকারি স্থাপনা, মেট্রো স্টেশন এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্ত্রাসী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালাচ্ছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি ভারতের হৃদয়ে পরিচালিত একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা। আমরা হামলাকারী ও তার সহযোগীদের বিচারের মুখোমুখি আনব।”
লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানের কাছে এ ধরনের আত্মঘাতী হামলা ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি একক কোনো চরমপন্থীর কাজ নয়—বরং বড় পরিসরের নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে, যা ভারতের রাজধানীতে ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।










