দিল্লিতে বোমা হামলার অভিযোগে ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের
- Update Time : ০৮:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬৯ Time View

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার পর দেশটির গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশের নাম ঘুরে ফিরে আসছে। বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করেছে— পাকিস্তানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদ নাকি এই হামলার ছক তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “যাই কিছু ঘটুক না কেন, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম আমাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই অভিযোগে বিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কোনো সচেতন বা যুক্তিবোধসম্পন্ন মানুষ এটা বিশ্বাস করবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চলতে পারে— এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তা স্বীকৃতি দিয়েছে।”
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে পার্ক করে রাখা একটি সাদা হুন্দাই আই-২০ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত ও অনেক আহত হন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার ইতোমধ্যে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এনআইএ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে এটিকে “সুনিয়োজিত সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
অন্যদিকে, একই দিন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে ভয়াবহ এক আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত
এই দুই প্রতিবেশী দেশের হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে ঢাকার কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দিল্লির হামলায় বাংলাদেশের নাম জড়ানোর প্রচেষ্টা আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা সব সময়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। আমরা আশা করি, ভারত সরকার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবে, এবং ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ সন্ত্রাস দমন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আমরা চাই, এই ধরনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যৌথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হোক।”
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে ভারত ও পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের সরকার এখন দৃঢ়ভাবে বলছে— দেশের মাটিতে কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র বা সন্ত্রাসী পরিকল্পনা চলতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট রেখে বাংলাদেশ বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা বরাবরই দায়িত্বশীল ও অঙ্গীকারবদ্ধ।










