জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচনের সুযোগ নেই: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
- Update Time : ০৮:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৭৬ Time View

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোট ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, “যারা জুলাই সনদ মানবে না, তাদের জন্য ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে সমমনা ৮ দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ হলো— সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামতই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোনো দলের নয়, বিজয় হবে জনগণের। এই দেশের মালিক জনগণ, তাই জনগণের দাবিই বাস্তবায়িত হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের অধিকার আদায়ে মাঠে আছি, মাঠে থাকব। যত ষড়যন্ত্রই হোক, জুলাই সনদ ও গণভোট ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”
জামায়াতের আমির জানান, জনগণের দাবি আদায়ে ধারাবাহিক আন্দোলন চলবে এবং শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, “এ লড়াই ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। যারা দমন-পীড়নের রাজনীতি করছে, তারা জনগণের জোয়ারে টিকতে পারবে না।”
সমমনা ৮ দলের পল্টন সমাবেশে উত্তাল জনসমুদ্র
মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল ও স্লোগান নিয়ে পল্টনে জড়ো হন। দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া এই সমাবেশকে ঘিরে এলাকায় ছিল ব্যাপক জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সমাবেশে অন্যান্য নেতারা বলেন, “যারা বলছেন সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই, তারা আসলে হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন। জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া এই সংবিধান পরিবর্তন করতেই জুলাই সনদ।”
নেতারা আরও দাবি করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই পল্টন সমাবেশ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের মতে, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ও
সমাবেশে আয়োজক দলগুলো নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানায়। তারা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে—
১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি।
২. নির্বাচনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি চালু ও সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত।
৩. রাষ্ট্রীয় জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৪. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৫. নির্বাচনের আগে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ।
নেতারা বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব মানেই গণতন্ত্রের আরও মৃত্যু। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই, বিদেশি চাপ নয়, চাই জনতার রায়।”
অংশগ্রহণকারী দলসমূহ ও ঐক্যের বার্তা
সমাবেশে অংশ নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
সমমনা দলগুলোর নেতারা এক কণ্ঠে ঘোষণা দেন— “গণভোট ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়।” তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের একমাত্র সমাধান হলো জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পল্টনের এই সমাবেশ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন মোড় এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর এক মঞ্চে এতগুলো ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী দল একত্রিত হওয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের গতি বাড়তে পারে।
অনেকে মনে করছেন, “জুলাই সনদ” এখন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়, বরং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের রূপরেখা হিসেবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের সময় যখন ঘনিয়ে আসছে, তখন এই সনদ ও গণভোটের দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনীতি আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।










