সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি স্থগিত
- Update Time : ০৭:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬০ Time View

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের চলমান কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ।
শিক্ষক নেতা বলেন,
“সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই আমাদের আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।”
এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় বহু শিক্ষক আহত হন। অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং রিকশাচালকসহ আশপাশের সাধারণ মানুষও আহত হন। সংঘর্ষের পর আহত শিক্ষকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তীতে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
প্রাথমিক শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে তিনটি মূল দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন—
- সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ
- উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান
- সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা
রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষক নেতারা তাদের দাবির বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত দাবিসমূহ অর্থ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতা
শিক্ষক সংগঠনের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন,
“আমরা সরকারের সদিচ্ছা দেখেছি। তাই কর্মবিরতি আপাতত স্থগিত করছি, কিন্তু আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত না বাস্তব সমাধান আসে।”
প্রাথমিক শিক্ষকদের এই আন্দোলন সারাদেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল। এখন কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ধীরে ধীরে ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।










