সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার, এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪৯২ Time View

ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ পাচার, এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অর্থ আত্মসাৎ মামলা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে আলোচিত শিল্পপতি সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি রোববার (৯ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কর্যালয়––এ সংস্থার সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ

দুদক বলছে, এটি সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ আত্মসাৎ মামলা— যার পরিমাণ ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের নীতিমালা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্র ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১–এর একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে আসামিরা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম স্টিলস লিমিটেডএস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড–এর নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেন।
এই ঋণগুলোর বিপরীতে রাখা হয় অপ্রতুল জামানত, এবং অর্থ আত্মসাৎ শেষে তা বিদেশে পাচার করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকের বিনিয়োগ ও ঋণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ঘটে।

২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ঋণসীমা ২,৪০০ কোটি টাকা থেকে ৩,৮০০ কোটি টাকায় বাড়ায়— যা ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ অতিক্রম করে, স্পষ্টতই আইন নীতিমালার লঙ্ঘন

ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম

দুদক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের দায় অতিরিক্ত এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন স্কোর (ICRRS) ৫০ শতাংশের নিচে থাকা সত্ত্বেও, ব্যাংক অনুমোদন দেয় নতুন ঋণসীমা বৃদ্ধির।
অপর্যাপ্ত জামানত— যা মাত্র ৪০–৭০%— থাকার পরও ঋণ নবায়ন ও বৃদ্ধি অনুমোদিত হয়, ফলে ব্যাংক ও আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

দুদক অভিযোগ করেছে, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও আইটি বিভাগে নিজের আত্মীয় অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
সাবেক ডিএমডি তাহের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্যাংকের আইটি সফটওয়্যার টর্চ–এ কারসাজি করে ঋণের মেয়াদ ও সীমা পরিবর্তন করা হয়— যার মাধ্যমে প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর হয়।

টাকা পাচারের ধরণ

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১৩৪টি ঋণের মাধ্যমে মোট ৯,২৮৩.৯৩ কোটি টাকা নামমাত্র কিছু প্রতিষ্ঠান— যেমন আহসান এন্টারপ্রাইজ, ইমপ্রেস করপোরেশন, অ্যাপারচার ট্রেডিং, ইউনিক ট্রেডার্স— এর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এই টাকা এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান— সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, এস এস পাওয়ার, এস আলম স্টিলস, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদির হিসাবে জমা হয়।

বিশেষ ঘটনায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর, ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ৩৭ কোটি টাকা গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের হিসাবে স্থানান্তর হয়। পরদিন ওই হিসাব থেকে ২৯০ কোটি টাকার (২৩.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক অব চায়নার সিঙ্গাপুর শাখার এস এস পাওয়ার–লিমিটেডের অফশোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

 মামলায় অভিযোগ

দুদকের মতে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ব্যাংক সফটওয়্যারে কারসাজির মাধ্যমে অনুমোদনবিহীন ঋণ প্রদান করে ইসলামী ব্যাংক থেকে মোট ৯,২৮৩.৯৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ পাচার করেছেন, যা সুদ–আসলে এখন ১০,৪৭৯.৬২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আসামিদের তালিকা

মামলায় আসামি হিসেবে আছেন—

  • এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম (৬৫)
  • তাঁর ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, চেয়ারম্যান, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
  • এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের এমডি ওসমান গনি ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সামাদ
  • গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক রাশেদুল আলম
  • সোনালী ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী সহিদুল আলম
  • এস আলম গ্রুপের পরিচালক ফারজানা পারভীন
  • ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মাহবুব উল আলম, মনিরুল মাওলা, আবদুল হামিদ মিয়া
  • সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান, সাবেক পরিচালক সেলিম উদ্দিন, এবং এক্সিকিউটিভ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিন
  • ব্যাংকের আরও অন্তত ৩০ জন সাবেক বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যেমন আইটি বিভাগের প্রধান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি), এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) প্রমুখ

 বিশ্লেষণ প্রতিক্রিয়া

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ইসলামী ব্যাংকের এই কেলেঙ্কারি দেশের ব্যাংকিং খাতের নৈতিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভয়াবহ দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে প্রমাণ মিললে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর অধীনে পৃথক মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি চলছে।

 

এই মামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ছাড়া কি এত বড় অর্থ স্থানান্তর সম্ভব ছিল?
দুদকের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তদন্তের পরিসর এখনো শেষ হয়নি, এবং প্রয়োজনে নতুন আসামিও যুক্ত হতে পারেন।

এই মামলা বাংলাদেশের আর্থিক খাতে জবাবদিহির নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার, এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Update Time : ০৭:০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ পাচার, এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অর্থ আত্মসাৎ মামলা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে আলোচিত শিল্পপতি সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি রোববার (৯ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কর্যালয়––এ সংস্থার সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ

দুদক বলছে, এটি সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ আত্মসাৎ মামলা— যার পরিমাণ ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের নীতিমালা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্র ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১–এর একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে আসামিরা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম স্টিলস লিমিটেডএস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড–এর নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেন।
এই ঋণগুলোর বিপরীতে রাখা হয় অপ্রতুল জামানত, এবং অর্থ আত্মসাৎ শেষে তা বিদেশে পাচার করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকের বিনিয়োগ ও ঋণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ঘটে।

২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ঋণসীমা ২,৪০০ কোটি টাকা থেকে ৩,৮০০ কোটি টাকায় বাড়ায়— যা ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ অতিক্রম করে, স্পষ্টতই আইন নীতিমালার লঙ্ঘন

ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম

দুদক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের দায় অতিরিক্ত এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন স্কোর (ICRRS) ৫০ শতাংশের নিচে থাকা সত্ত্বেও, ব্যাংক অনুমোদন দেয় নতুন ঋণসীমা বৃদ্ধির।
অপর্যাপ্ত জামানত— যা মাত্র ৪০–৭০%— থাকার পরও ঋণ নবায়ন ও বৃদ্ধি অনুমোদিত হয়, ফলে ব্যাংক ও আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

দুদক অভিযোগ করেছে, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও আইটি বিভাগে নিজের আত্মীয় অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
সাবেক ডিএমডি তাহের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্যাংকের আইটি সফটওয়্যার টর্চ–এ কারসাজি করে ঋণের মেয়াদ ও সীমা পরিবর্তন করা হয়— যার মাধ্যমে প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর হয়।

টাকা পাচারের ধরণ

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১৩৪টি ঋণের মাধ্যমে মোট ৯,২৮৩.৯৩ কোটি টাকা নামমাত্র কিছু প্রতিষ্ঠান— যেমন আহসান এন্টারপ্রাইজ, ইমপ্রেস করপোরেশন, অ্যাপারচার ট্রেডিং, ইউনিক ট্রেডার্স— এর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এই টাকা এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান— সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, এস এস পাওয়ার, এস আলম স্টিলস, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদির হিসাবে জমা হয়।

বিশেষ ঘটনায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর, ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ৩৭ কোটি টাকা গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের হিসাবে স্থানান্তর হয়। পরদিন ওই হিসাব থেকে ২৯০ কোটি টাকার (২৩.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক অব চায়নার সিঙ্গাপুর শাখার এস এস পাওয়ার–লিমিটেডের অফশোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

 মামলায় অভিযোগ

দুদকের মতে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ব্যাংক সফটওয়্যারে কারসাজির মাধ্যমে অনুমোদনবিহীন ঋণ প্রদান করে ইসলামী ব্যাংক থেকে মোট ৯,২৮৩.৯৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ পাচার করেছেন, যা সুদ–আসলে এখন ১০,৪৭৯.৬২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আসামিদের তালিকা

মামলায় আসামি হিসেবে আছেন—

  • এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম (৬৫)
  • তাঁর ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, চেয়ারম্যান, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
  • এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের এমডি ওসমান গনি ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সামাদ
  • গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক রাশেদুল আলম
  • সোনালী ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী সহিদুল আলম
  • এস আলম গ্রুপের পরিচালক ফারজানা পারভীন
  • ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মাহবুব উল আলম, মনিরুল মাওলা, আবদুল হামিদ মিয়া
  • সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান, সাবেক পরিচালক সেলিম উদ্দিন, এবং এক্সিকিউটিভ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিন
  • ব্যাংকের আরও অন্তত ৩০ জন সাবেক বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যেমন আইটি বিভাগের প্রধান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি), এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) প্রমুখ

 বিশ্লেষণ প্রতিক্রিয়া

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ইসলামী ব্যাংকের এই কেলেঙ্কারি দেশের ব্যাংকিং খাতের নৈতিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভয়াবহ দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে প্রমাণ মিললে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর অধীনে পৃথক মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি চলছে।

 

এই মামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ছাড়া কি এত বড় অর্থ স্থানান্তর সম্ভব ছিল?
দুদকের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তদন্তের পরিসর এখনো শেষ হয়নি, এবং প্রয়োজনে নতুন আসামিও যুক্ত হতে পারেন।

এই মামলা বাংলাদেশের আর্থিক খাতে জবাবদিহির নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।