অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় ‘দোষ স্বীকার’ করলেন শেখ হাসিনা
- Update Time : ১২:৪১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৮১ Time View

বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ও সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় অবশেষে ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমনই দাবি করেছে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।
‘রাজনৈতিক নেতৃত্বও দায়ী: বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনপর্বে হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রথমবার দোষ স্বীকার করলেন হাসিনা’— শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণবিক্ষোভে ক্ষমতা হারানোর ১৫ মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন তিনি। এর আগে তিনি বরাবরই দায় এড়িয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করে আনন্দবাজার জানায়, এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তীব্র আন্দোলন ও সহিংসতার মধ্যেই শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে দিল্লিতে চলে যান। তারপর থেকেই তিনি ভারতে ‘অজ্ঞাতবাসে’ আছেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই চলতি সপ্তাহে তিনি আন্তর্জাতিক তিন সংবাদমাধ্যম— রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-কে ইমেলের মাধ্যমে প্রথম সাক্ষাৎকার দেন।
প্রথম সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেছিলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকালে বিপুল প্রাণহানির জন্য দায়ী ছিল “অবাধ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা”। তিনি নাম না করে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের’ এবং ‘চক্রান্তে জড়িত আন্দোলনকারীদের একাংশের’ প্রতিও অভিযোগ তোলেন। তবে নতুন মন্তব্যে তিনি ভিন্ন সুরে বলেন, “দেশের নেত্রী হিসেবে আমি চূড়ান্তভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব স্বীকার করি।”
প্রশ্ন ছিল— “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে সংঘটিত সহিংসতার জন্য আপনি কি দায় স্বীকার করেন?” জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে বাধ্য। কিন্তু এটা ঠিক নয় যে আমি নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছিল, কিন্তু তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১,৪০০
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার এই মন্তব্য বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার এই আংশিক ‘দোষ স্বীকার’ হয়তো রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক মহলে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারেরও এক প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে অতীতের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার প্রশ্ন আবারও সামনে আসবে।










