বিবিসি ‘শতভাগ ভুয়া সংবাদ মাধ্যম’—ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সচিবের অভিযোগ
- Update Time : ১০:১৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২৮ Time View

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট সম্প্রতি বিবিসিকে “শতভাগ ভুয়া সংবাদ মাধ্যম” এবং “বামপন্থী প্রোপাগান্ডা যন্ত্র” হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই মন্তব্য আসে তখন, যখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি সিরিজ প্যানোরামা-তে ট্রাম্পের এক ভাষণকে ভুলভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
লেভিট বলেন, যুক্তরাজ্যে সফরের সময় যখন তিনি হোটেল কক্ষে বাধ্য হয়ে বিবিসির সংবাদ বুলেটিন দেখেন, তখন তার দিনটাই “নষ্ট” হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমটি ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের প্রচেষ্টা নিয়ে বামপন্থী প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে, যখন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা বিবিসিকে “গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি” করার দাবি জানান। কারণ, প্যানোরামা অনুষ্ঠানটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ট্রাম্পের ভাষণ থেকে একটি অংশ ভুলভাবে সম্পাদনা করে সম্প্রচার করেছিল।
ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ডকুমেন্টারিতে ট্রাম্পের বক্তৃতার দুটি পৃথক অংশ এমনভাবে একত্রিত করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গা উসকে দিয়েছিলেন। সম্প্রচারে দেখা যায়, ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে ক্যাপিটলে যাব এবং ‘fight like hell’,” অর্থাৎ ‘মরিয়া হয়ে লড়ো’। কিন্তু বাদ পড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—“শান্তিপূর্ণ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরো।”
দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভিট বলেন,
“বিবিসির এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বাচিত সম্পাদনা প্রমাণ করে, তারা সম্পূর্ণরূপে শতভাগ ভুয়া সংবাদ মাধ্যম। যুক্তরাজ্যের মানুষদের আর সময় নষ্ট করে তাদের দেখার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“প্রতিবার আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাই এবং হোটেল কক্ষে বিবিসি দেখতে বাধ্য হই, তখন দিনটাই খারাপ হয়ে যায়। তারা নির্লজ্জভাবে মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার সেইসব প্রচেষ্টা নিয়ে, যেগুলো আমেরিকাকে শক্তিশালী ও বিশ্বকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে।”
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনটি মাইকেল প্রেসকট নামে এক সাবেক উপদেষ্টার লেখা লিক হওয়া নথির ভিত্তিতে তৈরি। প্রেসকট ছিলেন বিবিসির Editorial Guidelines and Standards Committee-এর উপদেষ্টা।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে—
“প্যানোরামা যেভাবে ওই ক্লিপটি সম্পাদনা করে প্রচার করেছে, তা বিভ্রান্তিকর। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে গিয়ে লড়াই করতে বলেননি—এই কারণেই তার বিরুদ্ধে ফেডারেল দাঙ্গা মামলার কোনও অভিযোগ করা যায়নি।”
১৯ পৃষ্ঠার নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রেসকট বিবিসির আরবিক কভারেজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সংবাদে, তিনি “পদ্ধতিগত সমস্যা” এবং “মূল বিবিসি ওয়েবসাইটের সঙ্গে স্পষ্ট পার্থক্য” থাকার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বিবিসি আরবিক বারবার ইহুদি-বিরোধী বা হামাসপন্থী বক্তাদের ব্যবহার করেছে।
একই সঙ্গে নথিতে বিবিসির ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে পক্ষপাতমূলক সংবাদ কাভারেজর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, বিবিসির একদল কর্মী স্টোনওয়াল (Stonewall) সংগঠনের প্রভাব দ্বারা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ‘আটকে ফেলেছে’। এমনকি বিবিসির এলজিবিটিকিউ ডেস্ক এমন প্রতিবেদন প্রচারের অনুমতি দেয় না যা ট্রান্স ইস্যু নিয়ে বিতর্ক উত্থাপন করে। নথিতে বলা হয়েছে, ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদনের পরিবর্তে বিবিসিতে “একপেশে ও উদযাপনমূলক ধারাবাহিকতা” বজায় থাকে, যেখানে বিপরীত মতামতের কোনো স্থান নেই।
অভিযোগের জবাবে বিবিসির মুখপাত্র বলেন,
“আমরা ফাঁস হওয়া নথি নিয়ে মন্তব্য করি না। তবে যখন কোনো প্রতিক্রিয়া আসে, আমরা সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। মাইকেল প্রেসকট আমাদের বোর্ড কমিটির সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন, যেখানে বিভিন্ন মতামত নিয়ে নিয়মিত আলোচনা ও বিতর্ক হয়।”
এই ঘটনার পর পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে গণমাধ্যমের পক্ষপাত, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং করদাতার অর্থায়নে পরিচালিত মিডিয়ার জবাবদিহিতা। বিশেষ করে বিবিসির আন্তর্জাতিক কভারেজ, যেমন গাজা যুদ্ধ বা ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু, এখন আরও গভীর পর্যবেক্ষণ এবং সমালোচনার মুখে।










