সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: আজ থেকে শুরু আবেদন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৩৪ Time View

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ শনিবার (৮ নভেম্বর)। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ইতোমধ্যেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আজ থেকেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন, যা চলবে আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেসব অঞ্চলের প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

প্রার্থীদের সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য প্রার্থীদের টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েবসাইট http://dpe.teletalk.com.bd-এ গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, ছবি ও স্বাক্ষর আপলোডের নিয়ম, আবেদন ফি জমাদানের পদ্ধতি এবং সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। আবেদন ফরম পূরণের পর প্রার্থীদের একটি প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করে রাখতে বলা হয়েছে, যা লিখিত পরীক্ষার সময় কাজে লাগবে।

সহকারী শিক্ষকের পদটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে, যেখানে মূল বেতন ধরা হয়েছে ১১,০০০ টাকা থেকে ২৬,৫৯০ টাকার মধ্যে। এছাড়া অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতাও প্রযোজ্য নিয়মে প্রদান করা হবে।

যোগ্যতার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—প্রার্থীদের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (পাস) বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সিজিপিএ স্কেলে ৪ এর মধ্যে অন্তত ২.২৫ অথবা ৫ এর মধ্যে অন্তত ২.৮ থাকতে হবে। তবে শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ, তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ প্রাপ্ত প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাছাইয়ের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার সময়সূচি ও কেন্দ্র পরবর্তীতে জানানো হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক সংখ্যা আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ায় সরকার ধারাবাহিকভাবে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন এই ১০ হাজার ২১৯ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হলো।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট অনেকাংশে কমে যাবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শেখার আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: আজ থেকে শুরু আবেদন

Update Time : ০৩:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ শনিবার (৮ নভেম্বর)। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ইতোমধ্যেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আজ থেকেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন, যা চলবে আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেসব অঞ্চলের প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

প্রার্থীদের সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য প্রার্থীদের টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েবসাইট http://dpe.teletalk.com.bd-এ গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, ছবি ও স্বাক্ষর আপলোডের নিয়ম, আবেদন ফি জমাদানের পদ্ধতি এবং সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। আবেদন ফরম পূরণের পর প্রার্থীদের একটি প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করে রাখতে বলা হয়েছে, যা লিখিত পরীক্ষার সময় কাজে লাগবে।

সহকারী শিক্ষকের পদটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে, যেখানে মূল বেতন ধরা হয়েছে ১১,০০০ টাকা থেকে ২৬,৫৯০ টাকার মধ্যে। এছাড়া অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতাও প্রযোজ্য নিয়মে প্রদান করা হবে।

যোগ্যতার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—প্রার্থীদের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (পাস) বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সিজিপিএ স্কেলে ৪ এর মধ্যে অন্তত ২.২৫ অথবা ৫ এর মধ্যে অন্তত ২.৮ থাকতে হবে। তবে শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ, তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ প্রাপ্ত প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাছাইয়ের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার সময়সূচি ও কেন্দ্র পরবর্তীতে জানানো হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক সংখ্যা আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ায় সরকার ধারাবাহিকভাবে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন এই ১০ হাজার ২১৯ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হলো।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট অনেকাংশে কমে যাবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শেখার আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।