আগে গণভোট, তারপর জাতীয় নির্বাচন—চালাকি করলে রাজপথে নামবে জনগণ : তাহেরের হুঁশিয়ারি
- Update Time : ০৯:০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৮৩ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে না হলে জনগণ রাজপথে নেমে আসবে। তিনি বলেন, “সময়ক্ষেপণ বা রাজনৈতিক কৌশলে জনগণের দাবি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যতই চালাকি করা হোক, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত করতেই হবে। অন্যথায় জনগণ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় আবারও রাজপথে নামবে, আন্দোলনের আগুন জ্বালাবে।”
শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।
তাহের আরও বলেন, “গণভোট এখন সময়ের দাবি। জনগণের মতামত যাচাই না করে সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহল যদি এ ব্যাপারে টালবাহানা করে, তাহলে দেশের মানুষ আন্দোলনের পথে বাধ্য হবে।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দল গণভোট ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল চায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। তবে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক আটটি রাজনৈতিক দল দাবি জানাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের অনেক আগেই—অর্থাৎ চলতি নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন করতে হবে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে এসব দল যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছে।
বিএনপির অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তাহের বলেন, “যারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় না, তারা আসলে গণরায়ের ভয় পায়। ডাকসু নির্বাচনে পরাজয়ের পর তারা জাকসু, চাকুস, রাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে কত ষড়যন্ত্র করেছে—তা দেশের মানুষ দেখেছে। এখন আবার তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণভোট নিয়েও ভয় পাচ্ছে। কারণ তারা জানে, জনগণের সামনে গেলে তাদের ভরাডুবি অনিবার্য।”
তিনি আরও বলেন, “সিপাহি–জনতার বিপ্লব এবং ছাত্র–জনতার বিপ্লব একই ধারার আন্দোলন। এই বিপ্লবই স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরেও দেশের ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। শহীদ জিয়া ও শহীদ প্রফেসর গোলাম আজম—এই দুই নেতার জানাজা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুটি জানাজা ছিল, যা তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।”
তাহেরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, জামায়াত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রাখতে চায়। তাদের মতে, এই গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি জাতীয় ঐক্য ও জনগণের মতামতের প্রতিফলন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হেলাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অংশগ্রহণের স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা আবশ্যক। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে এবং জনগণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
তারা আরও দাবি করেন, সরকারের উচিত হবে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমতের পরিবেশ সৃষ্টি করা। কারণ জনগণের অনুমোদন ছাড়া কোনো নির্বাচনই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না।











